Page 1 of 2

অর্ধশতে সুখ

 

‘মৃত্যুকে পিছিয়ে দিতে পারে আনন্দমুখর জীবন।’ বেশ কিছুদিন আগে এই সংবাদে মুগ্ধ হয়েছিলাম। ওই সংক্রান্ত গবেষণায় নাকি যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকরা ৫০-৬০ বছর বয়সী ৯ হাজার নারী ও পুরুষের ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখতে পায়, পঞ্চাশোর্ধ বয়সেও যারা সার্বক্ষণিক হাসি-খুশি থাকতে পারেন তাদের পরবর্তী সাত বছরে মৃত্যুর ঝুঁকি কমে যায় অন্তত ২৪ শতাংশ। হার্ভার্ড স্কুল অফ পাবলিক হেলথ গবেষণাটি প্রকাশ করেছিল।
ব্যাপারটি আমাকে ভাবিয়েছিল। সাধারণত আমরা দেখতে পাই, পঞ্চাশোর্ধ বয়সের যে কোনো নারী-পুরুষই যেন জীবনের ভারে ন্যুব্জ। নানান দায়িত্ববোধ, অপ্রাপ্তি, ফেলে আসা দিনের না পাওয়ার হাহাকার অথবা যেন নিজেকে জীবন যুদ্ধে পরাজিত সৈনিক ভাবেন। অথচ ব্যাপারটি এমন নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিজ্ঞতার ঝুলি যেমন ভারী হতে থাকে তেমনি বাড়ে জ্ঞানের গভীরতা। কাজেই পঞ্চাশোর্ধ জীবনের মধ্যে খুঁজে পাওয়া ওইসব অর্জন কাজে লাগিয়েই শুরু হতে পারে আরেক নতুন জীবন।
সাধারণত মানুষের মনোভাব অনুযায়ী দেহে ক্ষতিকর ও উপকারী- উভয় ধরনের হরমোন নিঃসরণের মাত্রা বাড়ে-কমে। হাসি-খুশি অবস্থায় কারো শরীরে অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিজল-এর মতো মানসিক চাপ উদ্রেককারী হরমোনের মাত্রা কমে যায়। এছাড়া মানসিক অশান্তিতে থাকলে এমনিতেই মানুষের ধূমপান ও মদপানের মাত্রা বেড়ে যায়। এসব কারণেই যারা হাসি-খুশি জীবন যাপন করতে পারেন না তাদের আয়ুষ্কাল কমে আসে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা। কাজেই এই বয়সকাল ক্ষয়ে যাওয়ার নয়, অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের পরিধি নিয়ে শুরু করা যায় আনন্দময় পথচলা। মানুষ তার শৈশব, কৈশোর, তারুণ্য কাটিয়ে দেয় জীবন ও

জীবিকার সন্ধানে। কেটে যায় শিক্ষা জীবন, বয়ে যায় কর্মজীবনও। অনেকের মধ্যে সাহিত্য প্রতিভা বা লেখালিখির গুণাবলি থাকার পরও দেখা যায় সময় ও সুযোগের অভাবে চর্চাটি হয়ে ওঠে না। এই বয়সে এসে যারা মোটামুটি থিতু হন তারা বিগত জীবনের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের ভা-ার কাজে লাগিয়ে লেখালিখি বা সাহিত্য চর্চা করতে পারেন। লেখক মাত্রই জানেন, ওই সৃষ্টির আনন্দ। এর মধ্যেই খুঁজে পেতে পারেন জীবনের আনন্দের আরো একটি দিক। পৃথিবীতে অনেক নামকরা লেখক, এমনকি চিত্রশিল্পীদের কথাও শোনা যায় যারা অবসর জীবনে শিল্প চর্চার মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন জীবনের আনন্দ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন জীবনের বহুমুখী সমস্যাও বাড়তে থাকে। স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পারিবারিক ও সামাজিক নানানমুখী সমস্যাতেও জর্জরিত হয়ে ওঠে কারো কারো জীবন। সুস্থ ও সুন্দর থাকার সঙ্গে আনন্দময় জীবনের সম্পর্ক থাকুক, না থাকুক- এ বয়সে হঠাৎ করেই মাঝে মধ্যে যেন বদলে যায় আজীবন বয়ে চলা লাইফস্টাইলটি। এর প্রধান কারণ হতে পারে বয়সী অসুস্থতাগুলো। ডায়াবেটিস, হৃদরোগ- এসব কারণে বদলে যায় এতো দিন বয়ে চলা জীবনের গতিধারাটি। তাই সচেতন হতে হবে এবং যে সমস্যাই আসুক না কেন, তা মেনে নিয়ে মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। খাদ্য অভ্যাস বদলে ফেলা ও নিয়মিত জীবন যাপন, শরীর চর্চা, হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে এ সময়ের সমস্যা মোকাবেলায়। পারিবারিক সদস্যদের বিচ্ছিন্নতা বা একাকীত্বও এই বয়সটায় জীবন দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। এ বয়সে ছেলেমেয়েরা অনেকেই চলে যায় পড়ালেখা বা কর্মক্ষেত্রে। অনেকেরই জীবনসঙ্গী বা সঙ্গিনী গত হন কিংবা বিচ্ছেদ ঘটে। ওই ব্যাপারগুলো খুব সূক্ষ্মভাবেই মানসিক চাপের সৃষ্টি করে।

ছেলেমেয়েদের দূরে থাকা বা সামাজিক চক্ষুলজ্জায় অনেকেই একা থেকে আরো নিজের ক্ষতি করেন। সময় এসেছে দৃষ্টিভঙ্গি বদলের। বিচ্ছেদ বা সুকঠিন সমস্যাও মোকাবেলা করে নতুন জীবন শুরু করাই বরং বুদ্ধিমানের কাজ হবে। একাকীত্ব বা সঙ্গীহীন জীবন এই বয়সে খুব একটা উপযোগী নয়। কাজেই সঙ্গী বা সঙ্গিনী বেছে নেয়াও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আবেগের বশে বা অনাগত ভবিষ্যতের নেতিবাচক আশঙ্কায় অনেকেই নতুন করে সঙ্গী বা সঙ্গিনী নির্বাচনের ব্যাপারটি এড়িয়ে যান। এ ব্যাপারটি এড়িয়ে না গিয়ে বরং গুরুত্বসহ দেখার জন্য পরিবারের সবারই এগিয়ে আসা উচিত। আমরা প্রায়ই দেখে থাকি, এ মধ্যবয়সটায় স্বামী বা স্ত্রীকে হারিয়ে অনেকেই নির্লিপ্ত কিংবা কিছুটা অসহায় জীবনই পার করেন। এক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়াতে পরিবারের সদস্যদের এগিয়ে আসাটা যেমন জরুরি তেমনি নিজেরও সচেতনতার প্রয়োজন আছে। চিরকুমার ব্রত নেয়া কেউ কেউ অথবা অকৃতদার ব্যক্তির জন্যও এ বয়সটি হেলাফেলার নয়, বরং নতুন সঙ্গী বা সঙ্গিনীর প্রভাব বা তাদের সান্নিধ্যে জীবন হয়ে উঠতে পারে স্বর্গীয় সুন্দর।


শুধু সাফল্যের পেছনে ছুটে চলাতেই জীবনের সব আনন্দ বা সফলতা- এমন ভাবনাই সব নয়। সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। সময় ও সুযোগ খুঁজে নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন প্রকৃতির কাছে। পৃথিবীর এই বিশাল যজ্ঞে অংশ নেয়ার সুযোগ না হলেও তো অপার প্রকৃতি পড়ে রয়েছে আমাদের দ্বারপ্রান্তে। রোজ না হোক, সপ্তাহে বেড়িয়ে আসুন পরিবারের সঙ্গে বাড়ির কাছাকাছি পার্ক কিংবা কোনো বড় উদ্যানে। মঞ্চ নাটক, মুভি, থিয়েটার বা সাংস্কৃতিক কর্মকা- কিংবা সমাজসেবায় অংশ নেয়া অথবা উপভোগটি শুধুই তারুণ্যের অংশ নয়, আপনিও এসবের মূল্যবান অংশীদার। কাজেই সময় এসেছে দৃষ্টিভঙ্গি বদল ও নতুন করে ভাবার। জীবন ফুরিয়ে যাওয়ার নয়, বরং তা যতোক্ষণ গতিশীল ততোক্ষণই উপভোগের। তাই পঞ্চাশোর্ধ জীবনের এই বাঁক বদলে নিজেকে বদলে ফেলুন। জীবনটিকে করে তুলুন মূল্যবান ও সুন্দর।

এখানে একটি ব্যাপার মাথায় রাখা যেতে পারে, এই বয়সে এসে বিয়ের বয়স পেরিয়ে গেছে- এমনটা অনেকেই ভেবে থাকেন। আসলে সম্ভবত এমনটি মাথায় গেঁথে রাখার কোনো কারণ নেই। জীবনের নানান কাজে বা নানা প্রয়োজনে অনেকেরই হয়তো বিয়েটা ঠিক বয়সে করা হয় না, তবে সত্যি বলতে জীবন সঙ্গিনী বেছে নিতে বা বিয়েটা এই বয়সেও করে ফেলতে তেমন কোনো বাঁধা নেই। হতে পারে একই বয়সী বা কাছাকাছি বয়সের কনে না খুঁজে পাওয়া। এতে বিয়ে বা বাকি জীবনটা একেবারে বিফলে যাবে এমন গাঁটছড়ার বাঁধনে এটিও ভাবার কোনো কারণ নেই। একটু বয়সের বৈষম্য বা বেশি বয়সের বিয়েতেও বাকি জীবন হয়ে উঠতে পারে মধুর সান্নিধ্যের।
আসলে প্রয়োজন নিজেদের মাঝে বুঝে চলা ও জীবন উপভোগের বিষয়টিকে মাথায় রাখা। কাজেই চিরকুমার ব্রত নেয়া কেউ অথবা অকৃতদার মানুষের জন্যও এ বয়সটি হেলাফেলার নয়। বরং নতুন সঙ্গী বা সঙ্গিনীর প্রভাবে বা তাদের সান্নিধ্যতায় জীবন হয়ে উঠতে পারে স্বর্গীয় সুন্দর।

 

লেখা : সহজ ডেস্ক
মডেল : এনায়েত কবির
নাহিদা আলম উচ্ছ্বাস ও অনুষা
ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু

আলো ও আলেয়া

 

ইন্টেরিয়র ডিজাইন বা ডেকোরেশন অথবা গৃহের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ব্যাপারটি বর্তমানে বিশ^জুড়ে সম্প্রসারিত হলেও এটি আদৌও নতুন কিছু নয়। সাধের সঙ্গে সাধ্যের সমন্বয়টাই ইন্টেরিয়র ডিজাইন বা গৃহের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার মূল প্রতিপাদ্য। তাই উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত যে কেউই ইন্টেরিয়রের কথা ভাবতে পারেন। কোনো ইঞ্জিনিয়ার আপনার বাড়ির নকশাটি করে দেবেন, গৃহে রুমগুলোর নির্দেশনা দেবেন। কিন্তু পারিপার্শ্বিক অবস্থা আলো-ছায়া ও সবুজায়নসহ অনেক দিক বিবেচনা করে কোনো ইন্টেরিয়র ডিজাইনার আপনার ঘরের দরজা-জানালা, ভেন্টিলেটর ও আলোর উৎসসহ অন্য দিকগুলো দেখিয়ে দেবেন। কোনো ডিজাইনার ঘরের সাধারণ সিলিংটি বিভিন্ন আঙ্গিকে সাজিয়ে তা করে তোলেন দর্শনীয়। সিলিংয়ে বসানো যায় লাইটের সাহায্যে হাজার তারার আসর ও নানান বর্ণের বর্ণালী আলোর মেলা। তাই গৃহসজ্জায় চার দেয়াল এবং সিলিংয়ে রঙ ও লাইটিং প্ল্যান খুব জরুরি। বর্তমানে এলইডি বাতির কল্যাণে বিদ্যুতের খরচ খুব কমে এসেছে। এ কারণে ঘরের বিভিন্ন স্থানে প্ল্যান অনুযায়ী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসানো যায় কম আলোর রকমারি বাতি। বাসগৃহে বসবাসকারীরা যাতে মনোটোনাস হয়ে না পড়েন বা মনমরা ভাব না আসে, এদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাদের মানসিক স্বাস্থ্য, আনন্দের উৎস, ভালো লাগার বিষয়গুলো ইন্টেরিয়র পরিকল্পনার সঙ্গে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। এ জন্য আলো এবং রঙ ব্যবহার করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যা থেকে আলো প্রতিফলিত হয় এবং ভীতিকর ছায়া

না থাকে। হালকা ধরনের রঙ ব্যবহার করাই ভালো। যেমন- হোয়াইট, অফহোয়াইট, লাইট লেমন, লাইট ওয়ার্ম। স্টাডিরুম, কিচেন ও শিশুদের ঘরগুলোয় স্পট লাইট বা উজ্জ্বল বাতি ব্যবহার করলে ঘর ফুটে ওঠে। সর্বতভাবে খেয়াল রাখতে হবে, আপনার ইন্টেরিয়র ডিজাইন যেন নিজের ও পরিবারের সবাইকে স্বস্তি দেয়, ফ্রেশ রাখে এবং ঘুমের কোনো ব্যাঘাত না ঘটায়। আপনার রুচির সচেনতায় নিজের ইন্টেরিয়র যেন হয়ে ওঠে অন্যদের আলোচনার বিষয়।


দিনে সূর্যের আলো থাকে। তাই আলো নিয়ে এতো চিন্তা করার কিছু নেই। দিনশেষে রাতের আঁধারে আমাদের আবাস-চারপাশ ঢাকা পড়ে যায়। তাই রাতে কৃত্রিম আলো অনিবার্য। চলমান সভ্যতা আলোর অরণ্য থেকে বেছে নিতে হয় আলোর সঠিক উৎসটিকে। শুধুমাত্র ব্যতিক্রমধর্মী লাইটিংই পারে আপনার ইন্টেরিয়রের লুক পরিবর্তন করতে। সামান্য আলোর ব্যবহারে বৈচিত্র্য আসতে পারে ঘরে। উপযুক্ত আলোর নিক্ষেপণ চমকে দিতে পারে হাজারো মানুষের চোখ। এ কারণে ইন্টেরিয়রে আলোর ব্যবহারে হতে হবে চৌকস ও সৃজনশীল।


ঘরে যদি প্রাকৃতির আলো প্রবেশ করে তাহলে দিনে বাড়তি আলো না জ¦ালানোই ভালো। রাতে কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা করে ঘরের প্রতিটি বস্তুর ওপর নানানভাবে স্পটের মতো ওই আলো বিন্যস্ত করলে তা হয় নান্দনিক ও দর্শনীয়। এতে সৃষ্টি হয় সৌন্দর্যের নতুন এক মাত্রা। তবে বেশি উজ্জ্বল আলো ব্যবহারে ঘর গরম হয়ে ওঠে এবং শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থাকলে সেটির কার্যকারিতাও কমে যায়। আধুনিক কিছু ঘরে আলো রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে কমানো বা বাড়ানো যায়। ইন্টিরিয়রে এ ধরনের বাতি বেশ ভালো কাজ করে। ড্রয়িংরুমে ঝাড়বাতি ব্যবহারের বিকল্প নেই। এটি যার যেমন সাধ্য ওই অনুযায়ী সংস্থাপন করে নিলেই হবে। পরে এটি প্রতিস্থাপন করা তেমন ঝামেলার ব্যাপার নয়। ঘর সাজানোর জন্য বাজারে এখন নানান টেবিল ল্যাম্প পাওয়া যায়। এগুলোয় থাকে বিচিত্র কারুকাজ। একটি টেবিল ল্যাম্প একদিকে সুন্দর একটি শোপিস, অন্যদিকে তা মিষ্টি রঙিন আলোও প্রদান করে। টেবিল বা স্টান্ড ল্যাম্পের ডিজাইনের অভাব নেই। ইচ্ছা করলে হাতেও নিজের ডিজাইন মতো সহজেই টেবিল ল্যাম্প বানিয়ে নেয়া য়ায়। এখন বাজারে নানান ধরনের ফ্লাওয়ার ল্যাম্প পাওয়া যায়। এটি হাতেও বানানো যায়। তা একদিকে প্লান্টের কাজ করে, অন্যদিকে রাতে বাহারি ফুলের মতো উজ্জ্বল ফুল হয়ে ফুটে ওঠে। সুন্দর একটি নান্দনিক ইন্টেরিয়রে মোম ও মোমদানির ভূমিকাও কম নয়। ডিজাইনারের পরামর্শ অনুযায়ী ঘরে সাজানো যায় আপনার রুচি বহনকারী অ্যান্টিক ও দুষ্পাপ্য আলোক সামগ্রী।

 


লেখা : রাশেদ মামুন
ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু
কৃতজ্ঞতা : সোহানী ইন্টেরিয়রস

ফিরে আসা

 

ফিরে আসার গল্প বলার দৃঢ় সংকল্প নিয়েই এগিয়েছিলাম দুরূহ পথ ধরে। পেছন ফিরে তাকালে যেন এখনো দেখতে পাই সময়গুলো, যে সময়গুলো নিজেই দীর্ঘ হয়ে যায় বেদনার ভার বুকে করে। দিনগুলো চলতে থাকে একটি ছন্দ নিয়ে। নিজের একটি নকশা তুলতে তুলতে অনেক পাওয়া আর না পাওয়ার ভাবনা জমে। আবার সময় হঠাৎ করে অন্য আরেক ছন্দে ঢুকে পড়ে যখন ইচ্ছা আর লক্ষ্যগুলো একদম আলাদা হয়ে যায়। যা অনায়াসে পাওয়া হয়ে আসে তা নিয়েই গতানুগতিক ছন্দপ্রবাহে আবারও যুক্ত হওয়ার জন্য চেষ্টা চলতে থাকে।


আমার স্তন ক্যানসার পার হয়ে আসার গল্প বলি। নিজে নিজে পরীক্ষা করতাম। কিন্তু একদম হঠাৎ করেই ধরা পড়ল। খানিকটা চিৎ হয়ে শুয়ে ছিলাম। একটা গোটার মতো টের পেলাম। আমার এক কাছের ডাক্তার বড় আপাকে বললাম। তার বলে দেয়া ডাক্তারের পরামর্শমতো মেমোগ্রাম, এফএনএসি, কোর বায়োপসিতে বোঝা গেল টিউমার আছে। আর তা ক্যানসার হয়ে বসে আছে। ঈদের লম্বা ছুটির মধ্যে যথাসম্ভব খোঁজ-খবর করে সার্জারিকে দেখানোর সময় ও ক্লিনিক ঠিক করা হলো। ছুটি শেষ হতেই সার্জারি। এরপর বায়োপসির রিপোর্ট অনুযায়ী কেমোথেরাপি। অনেক সময় ধরে চিকিৎসা নিয়ে, বহুপথ পেড়িয়ে ক্যানসারমুক্ত হওয়া।


বিদেশে যাওয়ার চিন্তা করিনি। আমার অবস্থানুযায়ী এ দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা আমার জন্য বেশ ভালো। সিদ্ধান্তগুলো আমি আর আমার স্বামী মিলে নিতাম। অনেকে বুদ্ধি আবার অতিরিক্ত পরামর্শও দিতেন। কিন্তু আমরা বুঝে নিতাম কোনটি আমাদের জন্য উপযুক্ত। অবস্থাটি আমরা একেবারে আমাদের করে নিলাম। সার্জারি, কেমোথেরাপি, ডাক্তার দেখানো, রক্ত পরীক্ষা করে আমরা কথা বলতাম, চিন্তা করতাম। এতোদিনের ভালোবাসা, প্রেম, ছেলে মানুষ করা, এক সঙ্গে বুড়ো হতে থাকার মধ্যে আমরা যতো কাছে ছিলাম এর চেয়ে অনেক বেশি কাছে চলে এলাম। ডাক্তারের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েছিলাম। তাই দুঃখজনক কিছু চিন্তা করতাম না। আর আমার স্বামী সব সময় সাহস জোগাতেন। আমাদের প্রচ- বিশ্বাস ছিল, আমরা এটি পার হয়ে আসব।
আমার ছেলের বয়স তখন ১২ বছর। ব্যাপারটি নিজে থেকে খানিকটা বুঝত আর নেট ঘেঁটে বাকিটা বুঝে নেয়ার চেষ্টা করতো। আমাকে অনেক সাহস দিতো। মন তবুও খারাপ হতো। এক আপার সঙ্গে ফোনে কথা হতো। আমরা একজন অন্যজনকে আগে চিনতাম না। তাকে কখনোই দেখিনি। তিনিও এক সময় এসবের মধ্য দিয়ে গেছেন। তাই তার নম্বর জোগাড় করি। অনেক সময় ঘণ্টা পার হয়ে যেতো কথা বলে। সবকিছু শুনতেন। মাঝে মধ্যে তার ওই সময়টার কথাও বলতেন। কতো কষ্ট হতো, কতো চেষ্টা চলতো। ওই সময় তার অফিসের কাজের কথা, বাসা সামলানো, মনের অবস্থা- সব। সারাক্ষণ সাহস দিতেন। খাওয়া, বিশ্রাম আর দুশ্চিন্তা না করার ব্যাপারে জোর দিতেন।

সার্জারির আগের দিন অ্যানেসথেসিওলজিস্ট এলেন। অভয় দিলেন। হাঁপানি আমার পুরনো রোগ জেনে গেলেন। সার্জারির পর ক্লিনিকে কিছুদিন থেকে বাসায় ফিরে যাওয়ার পর শুরু হলো কেমোথেরাপির চিন্তা। আরেক হাসপাতাল, আরেক ডাক্তার। সার্জারির আগে পেট স্ক্যান করার সুযোগ হয়নি। তাই পরে করা হলো। ঠিক ওই সময়ই ভয় হলো যদি আবারও কিছু ধরা পড়ে! হাসপাতালের অ্যাটেনডেন্ট মেশিনের কাছে নিয়ে গেলেন। এরপর কেমোথেরাপিস্ট পরবর্তী চিকিৎসা বুঝিয়ে বললেন। কেমোথেরাপি লাগবে কেন, কয়টা, কতোদিন পর পর, কী ওষুধ দেবেন, কী কী অসুবিধা হতে পারে- সব। অনেকটা দিন লাগবে আর শরীর-মন ভালো রাখতে হবে- সবই সুন্দর করে বললেন। মনে হলো, খুব লেগে থেকে সবটুকু পার হয়ে যাব।
প্রথম কেমোথেরাপির পর পরই খাওয়ার রুচি হারিয়ে ফেললাম। তবুও যে ধৈর্য ধরে খেতে হবে তা বুঝিনি। কারণ পুষ্টি তো আসবে খাবার থেকেই। আর ওই সময়টায় সাধারণ অবস্থার চেয়ে বেশি ক্যালরি দরকার। মনে করলাম, রুচি আবার ফিরে আসবে। কিন্তু খাওয়ার অনিচ্ছা আরো বাড়লো। ভাত খেতে ঘণ্টা পার হয়ে যেতো। অল্প করে কিছুক্ষণ পর পর খেতাম। এক প্রস্থ খাওয়া শেষ হলে নিজেকে বাহবা দিতাম। ডাক্তার বলতেন প্রোটিন বেশি খেতে, স্টার্চ কম খেতে এবং চিনি, তেল-চর্বি, মশলা এড়িয়ে যেতে। বেশকিছু মৌসুমি ফল খেতে বলতেন। ফল খেতে ভালোও লাগতো। রান্না খাবারে লবণের স্বাদ সঠিক হলেও পরিমাণে তা বেশি লাগতো। অল্প মশলাতেও অনেক সময় মুখ জ্বলত। টোস্ট, বিস্কুট খাওয়ার জন্য লোভ হতো। কিন্তু টোস্ট, পাউরুটি খেলেই মুখের তালু ছুলে যেতো আর বিস্কুট তো দুরস্ত। খুব খেয়াল রাখতাম যেন যথেষ্ট পানি খাওয়া হয়। বলে দেয়া হয়েছিল, কেমোথেরাপির সময় পানি স্বল্পতায় নানান জটিলতা হতে পারে।
প্রথম কেমোর দ্বিতীয় সপ্তাহেই জ্বর এলো। তাড়াতাড়ি রক্ত পরীক্ষা করে দেখা গেল, রক্তের শ্বেতকণিকা ভয়ানক রকম কমে গেছে। তখনই হাসপাতালে ভর্তি। ডাক্তার জানালেন, কেমোথেরাপির পর অনেকেরই ওই অসুবিধা হয়। তখন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় বলে পর্যবেক্ষণে থাকার জন্য হাসপাতালে থাকতে হয়। কারণ ওই সময়টায় ইনফেকশন হলে তা মারাত্মক হয়ে যেতে পারে। ওষুধ-পথ্য আর শুশ্রƒষায় ঠিক হয়ে সপ্তাহখানেক পর বাসায় ফিরি। ততোদিনে দ্বিতীয় কেমোথেরাপির সময় হয়ে গেছে। এভাবে পুরো সময়টায় মোট তিনবার এমন অবস্থায় পড়লাম। আর প্রতিবারই হাসপাতালে থাকা হয়। পরের দিকে সেরে উঠতে আরো সময় লাগতো। শরীর তো বার বার যুদ্ধ করছিল, তাই। একবার তো অণুচক্রিকাও কমে গেল। চারটি কেমোথেরাপি পার করার পর বেঁকে বসলাম, আর নেব না। আমার স্বামী তখন বোঝালেন, আমরা তো ঠিক করেছিলাম সব পার করবো। আবার মনে জোর আনলাম, বাকিগুলোও পার করবো।
তৃতীয় সপ্তাহ থেকে চুল পড়া শুরু। অল্প করে শুরু হয়ে একেবারে ঝুরঝুর করে পড়তে লাগলো। তৃতীয় কেমোথেরাপির পর রাতে বমি হলো। সামান্য যা চুল ছিল তা মুখের সামনে এসে অসুবিধা করছিল। আমার স্বামী তখন বাকিটুকু চুল খুব ছোট করিয়ে ট্রিম করে দিলেন। বোঝা যাচ্ছিল, সব চুল ফেলে দিতে তার মনে কতো কষ্ট হচ্ছে!


পাশের বেডে এক আপা কেমোথেরাপি নিতেন। তার সঙ্গে বেশ কিছুদিনের শেডিউল মিলে যেতো। আবার আমরা অসুস্থ হলেও একই সময় হাসপাতালে থাকতাম। শ্বেতকণিকা কম থাকার কারণেও ওই সময়টায় মেলামেশা এড়িয়ে যেতাম। তার মনের জোর দেখে অবাক হতাম! অন্য রোগীদের প্রাণশক্তিটা যে কী প্রখর হয়ে আছে তা তাদের চেহারা দেখলেই বোঝা যেতো। তখন আমাদের চেহারা পাল্টে একেবারেই অন্য রকম হতো। কিন্তু চোখ দেখে ধারণা করা যেতো, কতো বড় বড় বাধা পার হয়ে আসছি আমরা। এ রকম এক সময় ওই অ্যাটেনডেন্ট ভাইয়ার সঙ্গে আবার দেখা। তখন চুল, ভ্রƒহীন অবস্থায় চেহারা ফুলে একেবারে চাঁদের মতো। কেমন আছি জিজ্ঞাসা করায় অবাক হলাম। আমাকে চিনলেন কীভাবে! তিনি বললেন, মানুষের চোখ তো একই রকম থাকে। তাই চেনা যায়। তার কথাটি পোশাকি ছিল না, আন্তরিকই ছিল। নার্সরা অনেক যতœ নিতেন। তাদের নিঃশব্দে হাঁটাটা খুব মজা লাগতো। কীভাবে যে বুঝে যেতেন, কখন তাদের কাউকে আমার দরকার লাগবে! ওই সময় তাদের সাজপোশাক বেশ খেয়াল করতাম। ইনফেকশনের ভয়ে দুল পরতাম না। দেখতাম, তারা খুব ছোট্ট দুল পরেন, খুব হালকা কাজল দেন আর চুল তো নেটের ভেতর বাঁধা থাকে। এমন প্রমিত সাজ ভালো লাগতো। নিজের জন্য মায়া লাগতো যে, আহারে, আমার চুল কবে হবে!

বাসায় আমার সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিল আমার কুকুরটি। এরা হলো অন্য প্রাণীর শরীরে ভর করে আসা মহাপ্রাণ। ওই প্রাণীটি ছিল বলেই আমাকে বাসায় কখনো একা থাকতে হয়নি, একাকীত্বেও ভুগিনি। কী করে যে মনের অবস্থা বুঝতে পারতো! আর যখন হাসপাতাল থেকে ফিরতাম, অল্প দূরত্ব বজায় রেখে কাছে থাকতো। যখন আমাকে কেমোথেরাপির সুবিধার জন্য পোর্ট করতে বলা হলো তখন ওই কুকুরের কথা চিন্তা করে করলাম না। ইনফেকশন হয়ে গেলে সব দোষ ওই প্রাণীটির ঘাড়ে পড়তো। আর খরচের ব্যাপারটিও ছিল। পোর্ট অবশ্য আমার ভালো সাহায্যে আসতো। ধীরে ধীরে সব কেমোথেরাপি ভালোভাবে পার করা হলো। সেরে উঠলাম। কিছু জিনিস আগের মতো থাকলো না। কিছু জিনিস ভালোর জন্য পাল্টালো। পরীক্ষায় ছেলে বেশ খারাপ করলো। তাকে স্কুল পরের ক্লাসে বিশেষ বিবেচনায় নয়, এমনিই তুলে দিল। তার টিচার জানতেন। বন্ধুদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অনেক বেড়ে গেল। কেউ কেউ স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হলো। যে কোনো কঠিন সময়ের মতো ওই অভিজ্ঞতাতেও টের পেলাম কারা আমাদের পরম আপনজন আর কারা আবর্জনা।

ক্যানসার একটি মহাচোর। মানুষের অনেক কিছু নিয়ে নেয়। তবু মানুষ তো অমৃতের সন্তান। তাই লড়াই করেই যায়। এর মধ্যেও যারা থেমে যান না। তারাই শ্রদ্ধার পাত্র। আর যারা পরম মমতা ও পরিশ্রমে তাদের পাশে থাকেন তারাও সমানভাবে শ্রদ্ধার পাত্র। তাদের ছাড়া ওই লড়াইয়ে উত্তীর্ণ সম্ভবই নয়। ক্যানসার নিয়ে মানুষের মধ্যে অনেক ভুল ধারণা আছে। এখন চিন্তা করে দেখি, আমার দিকের পরিবারে বড় পরিসরে হৃদরোগ আর স্তন ক্যানসারের হার প্রায় সমান। তাই হয়তো এটি ধরা পড়ার পর এতোটা ঘাবড়াইনি। তবু আমাদের কেউ যখন পরিবারের ক্যানসারভোগীদের রোগের যোগসূত্র বৈবাহিকভাবে অন্যপক্ষের আত্মীয়র কাছ থেকে খোঁজেন তখন বেশ অবাক লাগে! ক্যানসার নিয়ে মানুষের মনে এত সন্দেহ থাকা উচিত নয়। আমি ফিরে আসতে পেরেছি, আপনিও পারবেন। যারা এমন দুঃসহ যন্ত্রণার মাঝ দিয়ে পার হবেন কিংবা যারা এখন সুস্থ আছেন তাদের সচেতনতার জন্য কিছু বিষয় জানানো হলো:- সাধারণত ৫০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের মধ্যে স্তন ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। তাই এতোদিন এ ব্যাপারে নারীদের সচেতন করাই ছিল মুখ্য। কিন্তু এখন পুরুষদেরও সচেতন করার জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কারণ পুরুষদের মধ্যেও স্তন ক্যানসার দেখা দিতে পারে। অবশ্য তাদের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার খুবই কম। এক হিসাবে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন ৪১ হাজার নারী। ওই তুলনায় মাত্র ৩০০ পুরুষ এই রোগে আক্রান্ত হন। স্তন ক্যানসার হওয়ার কারণগুলো এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি।


স্তন ক্যানসার হয়েছে কী করে বুঝবেন
- স্তনে একটি পি-ের মতো অনুভব হয়।
- স্তনের বোঁটা থেকে রক্ত বের হয়।
- স্তনের আকার ও আকৃতির পরিবর্তন হয়।
- স্তনের ত্বকে পরিবর্তন দেখা দেয়। যেমন- টোল পড়া।
- স্তনের বোঁটা ভেতরের দিকে ঢুকে যায়।
- স্তনের বোঁটার চামড়া উঠতে থাকে।
- স্তনের ত্বক লালচে তথা কমলার খোসার মতো এবং গর্ত গর্ত হয়ে যায়।

কখন ডাক্তার দেখাবেন
- স্তনে নতুন ও অস্বাভাবিক পি- অনুভব করলে।
- পরবর্তী মাসিক পার হয়ে গেলেও পি- না গেলে।
- স্তনের পি- আরো বড় ও শক্ত হলে।
- স্তনের বোঁটা থেকে অনবরত রক্ত নির্গত হলে।
- স্তনের ত্বকে পরিবর্তন দেখা দিলে।
- স্তনের বোঁটা ভেতরের দিকে ঢুকে গেলে।

কোথায় চিকিৎসা করাবেন
- জেলা সদর হাসপাতালে।
- মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে।
- বিশেষায়িত সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে।

কী ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে
- মেমোগ্রাম (Mammogram) বা স্তনের এক্স-রে।
- ব্রেস্ট আলট্রাসাউন্ড (Breast Ultrasound)।
- ব্রেস্ট ম্যাগনেটিক রিজোন্যান্স ইমাজিং {Breast magnetic resonance imaging (MRI)}।
- বায়োপসি (Biopsy)।
- রক্তের পরীক্ষা।
- বুকের এক্স-রে।
- কম্পিউটারাইজড টমোগ্রাফি স্ক্যান {Computerized tomography (CT) Scan }
- পজিট্রন ইমিশন টমোগ্রাফি স্ক্যান {Positron emission tomography (PET) Scan}

কী ধরনের চিকিৎসা আছে
স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা নির্ভর করে এর ধরন, পর্যায়, ক্যানসারের কোষগুলো হরমন সংবেদনশীল কি না এসবের ওপর। অধিকাংশ নারীই স্তন অপারেশনের পাশাপাশি অন্যান্য বাড়তি চিকিৎসাও গ্রহণ করে থাকেন।
যেমন- কেমোথেরাপি, হরমনথেরাপি অথবা রশ্মিথেরাপি।

 

লেখা : তাহমিনা রহমান

শীতে ত্বকের যত্ন 

 

‘এখন শীতকাল। এই শীতের সঙ্গে আছে শুষ্কতার নিবিড় সম্পর্ক। আর এ শুষ্কতার কারণেই ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ জন্য প্রয়োজন একটু বাড়তি যত্ন’- এ কথাগুলো বললেন হারমোনি স্পা ও ক্লিওপেট্রা বিউটি স্যালনের রূপ বিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা রীতা।

শীতে অ্যালার্জির উপদ্রবও দেখা যায়। তখন ত্বকে র‌্যাশের সমস্যা দেখা যায়। শুষ্কতার কারণে ত্বক উজ্জ্বলতা হারায়। একটু যত্ন নিলেই শীতে ত্ব¡ক ভালো রাখা যায়। যেহেতু শীতে বাতাসের আর্দ্রতা ক্রমেই কমতে থাকে সেহেতু ধুলো-ময়লা জমে ত্বকে নানান সমস্যা দেখা দেয়। এ থেকে রক্ষা পেতে সবার আগে ভালো করে ত্বক পরিষ্কার রাখাটা অত্যন্ত জরুরি। শীতে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার রাখা যায় যেভাবে-


তৈলাক্ত ত্বকের জন্য : লেবুর রস দুই টেবিল চামচ, গ্লিসারিন এক চা-চামচ, গোলাপ জল তিন টেবিল চামচ একত্রে মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।


বেশি শুষ্ক ত্বকের জন্য : আধা চা-চামচ দুধ ও মধু একত্রে মিশিয়ে দুই মিনিট মাসাজ করে ত্বক পরিষ্কার করতে হবে। এতে ত্বকের শুষ্কতা কমবে। এরপর একটি ডিম, মধু দুই চামচ, গুঁড়া দুধ এক চামচ, কাঁচাহলুদ এক টেবিল চামচ, লেবুর রস আধা চামচ একত্রে পেস্ট করে ত্বকে লাগানোর ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।


স্বাভাবিক ত্বকের জন্য : এক চামচ গাজরের পেস্টের সঙ্গে টক দই মিশিয়ে ত্বক পরিষ্কার করতে হবে। এছাড়া শসার কুচি দুই টেবিল চামচ, গোলাপ জল ছয় টেবিল চামচ, ময়দা এক টেবিল চামচ, গ্লিসারিন দুই টেবিল চামচ, মধু এক চামচ একত্রে ব্লেন্ড করে ত্বকে লাগানোর ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।


খসখসে ত্বকের জন্য : খসখসে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে ও পরিষ্কার রাখতে দিনে অন্তত দু’বার ফেসওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল রাখতে লোটাস ফেয়ারনেস জেল বিশেষ করে রাতে শোয়ার আগে মুখ, গলা ও বুকের খোলা অংশে মাখলে উপকার পাওয়া যাবে।


মেকআপের জন্য : এক চা-চামচ শসার রস ও মধু এবং সামান্য তেঁতুল মিশিয়ে মেকআপের আগে ত্বক টোনিং করে নিলে মেকআপ ভালো বসে। এছাড়া প্রতিদিন অন্তত তিনবার কোন ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বকের উপকার নিশ্চিত।

শীতকালে হাত ও পায়ের যত্ন
- আঙুল নরম ও মসৃণ রাখতে সপ্তাহে একবার অলিভ অয়েল গরম করে হাতের আঙুলে লাগাতে হবে।
- হাতের ত্বক খসখসে হলে লেবুর রসে এক চামচ মধু বা চিনি দিয়ে হাতে ঘষে ধুয়ে ফেলতে হবে।
- কনুইয়ে কালো দাগ দেখা দিলে চিনি ও লেবুর রস মিশিয়ে ৫-৭ মিনিট মাসাজ করে ধুয়ে ফেলতে হবে।
- লেবুর রস ৪ চা-চামচ, মধু এক চা-চামচ, অলিভ অয়েল এক চা-চামচ একত্রে মিশিয়ে পায়ে মাসাজ করতে হবে ভালোভাবে।
- রাতে শোয়ার আগে পানিতে এক চামচ লবণ, এক চামচ শ্যাম্পু, এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে কুসুম গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রেখে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর ময়েশ্চারাইজার ক্রিম বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাতে হবে।

সবশেষে বলা যায়, যে কোন ঋতুতেই শরীরের বাইরের সৌন্দর্যের পাশাপাশি মনের সৌন্দর্যের বিষয়েও খেয়াল রাখা জরুরি। নিয়মিত মেডিটেশন ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো করার মতো বিষয়গুলোতেও
মনোযোগী হওয়া আবশ্যক।

 

মডেল : নওরিন
ছবি : ফারহান ফয়সাল

 

 

 

 

 

আবেগ বা ইমোশন ছাড়া কি মানুষ হয়! না, কখনোই নয়! যার আবেগ নেই তিনি তো কোনো মনুষ্যকুলের ভেতরই পড়েন না। আবেগ আছে বলেই তো পৃথিবীতে এতো প্রেম,-ভালোবাসা, এতো কবিতা-গান। তবে ওই আবেগই আবার অনেক ক্ষতিরও কারণ। আবেগের বাড়াবাড়ি আছে বলেই এতো হানাহানি, রেষারেষি, আত্মহত্যা, ঝগড়া-ফ্যাসাদ, বিচ্ছেদ ইত্যাদি।
আবেগের কারণেই যেমন মানুষ আপ্লুত হয় ঠিক তেমনই আবেগ অনিয়ন্ত্রণেই ফেটে পড়ে ক্রোধ, চিৎকার, চেঁচামেচি বা লঙ্কাকা- ঘটিয়ে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ তথা নিজের ইন্টারনাল ক্ষতিও করে থাকে। এই ইমম্যাচিউরড মেন্টালিটি পরিহার করুন। এছাড়া আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন ও হাসি-খুশি জীবন যাপন করুন এবং নিজে বাঁচুন, অপরকে বাঁচান। ইমম্যাচিউরড মেন্টালিটি বলতে গিয়ে মনে পড়ে গেল আরেকটি কথা। তা হলো ছোট শিশুরা তাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে প্রায় অক্ষম থাকে। যেমন তারা একটা প্রজাপতি বা বিড়ালছানা দেখলেই হাসি-খুশি মনে ধরতে দৌড়ায় ঠিক তেমনি একটু ধমকেই ভ্যাঁ করে কেঁদেও ফেলে।

যাহোক, দেখি আবেগ কী বা আবেগের বহিঃপ্রকাশ মাধ্যম কী কী?
আবেগ ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ হলো ভালোবাসা, ভালো লাগা, আনন্দ-বেদনা, হিংসা-বিদ্বেষ, রাগ-ক্রোধ, ঝগড়া-ঝাটি, মারামারি, খুনাখুনি, উন্মাদনা, ইগো ইত্যাদি।
ওই আবেগ নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে যখন কেউ কেউ রাস্তার মাঝে গাড়ি থামিয়ে জানালা নামিয়ে নিয়ম ভাঙা কাউকে উত্তেজিতভাবে গালি দিয়ে ফেলে বা রেস্টুরেন্টে প্রেমিকের সঙ্গে ঝগড়া শুরু করে আশপাশ জানিয়ে দেয় এবং শেষমেশ স্থান-কাল-পাত্র ভুলে কেঁদেই ফেলে তখন নিজে তো বোকার মতো আচরণ করেনই, এমনকি প্রেমিকসহ অন্যদেরও বিব্রত করে। এছাড়া নিজেরও বিশেষ ক্ষতি করে থাকেন যা তার অজান্তেই নিজের মধ্যে ঘটে যায় তা তিনি জানেনই না। তাই আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা অবশ্যই জরুরি। আবেগ নিয়ন্ত্রণের রয়েছে কিছু পরীক্ষিত কৌশল। যখনই কেউ ক্রোধে উন্মাদ হবেন বা রাগ-দুঃখে চুল ছিঁড়তে চাইবেন (নিজের এবং অপরের) কিংবা চিৎকার-চেঁচামেচিতে বাড়ি মাথায় করবেন অথবা কোনো দিশা না পেয়ে ধেই ধেই পাগলা নৃত্য করবেন তখনই মনে রাখুন নো কুইক রিঅ্যাকশন বা দ্রুত প্রতিক্রিয়া না দেয়া : সোজা ভাষায়, রিঅ্যাক্টিভ না হওয়া! কোনো পরিস্থিতি আবেগ দিয়ে বিবেচনা না করে যুক্তি দিয়ে বিবেচনা করতে শিখতে হবে এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে ঠা-া মাথায় চিন্তা করে পদক্ষেপ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, উগ্র বৈশিষ্ট্যের স্বভাব বা গালাগালি, ক্রোধ প্রকাশ, অশালীন ভাষার ব্যবহার যুক্তিটিকে দুর্বল করে ফেলে।


সঠিক সমাধান : আমার কাছে ব্যাপারটি সময় নিয়ে হলেও সঠিক ডিসিশন নেয়াটাটিকেই বোঝায়। যে বিষয়গুলোয় আমরা ইমোশনাল হয়ে পড়ি সেসব থেকে মন অন্যদিকে সরাতে হবে। তা না পারলে মন থেকে মুছেই ফেলতে হবে যেসব স্মৃতি বা ঘটনা আমাদের ইমোশনাল করে তোলে অথবা অন্য কিছুর প্রতি মনোযোগী হওয়া বা মত পাল্টে ফেলাও একটি সমাধান হতে পারে। খোলামেলা আলোচনার সুযোগ থাকলে যার সঙ্গে মনোমালিন্য হয়েছে তার সঙ্গে তা নিয়ে কথা বলা যেতে পারে।


সচেতনতা : সচেতনতা বৃদ্ধি বা আবেগ নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকাও একটি জরুরি ব্যাপার। কোন কোন পরিস্থিতিতে আবেগ নিয়ন্ত্রণে থাকছে না সেগুলো খেয়াল রাখতে হবে। রাগ, দুঃখ, ভালোবাসা, ভালো লাগা, ক্ষোভ, ক্রোধ, হতাশা, অস্থিরতা এসবের নেতিবাচক কারণ চিহ্নিত করতে হবে।


চিন্তার পরিবর্তন : যেসব বিষয় নিয়ে ভাবলে আবেগ নিয়ন্ত্রণে থাকে না বা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়তে হয় তা মনে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে চিন্তা পরিবর্তন করতে হবে। ওই সময় ভালো কোনো স্মৃতির কথা মনে করা যেতে পারে। এভাবেই চিন্তাধারা ভিন্নদিকে প্রবাহিত করে আবেগাপ্লুত না হয়ে আত্মনিয়ন্ত্রণ বা আবেগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব ।


ইতিবাচক হওয়া : ইতিবাচক চিন্তা-ভাবনা বা সিদ্ধান্ত কিংবা ভালো চিন্তা আবেগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। ভালো আচরণ দিয়ে জীবনের অর্জনগুলো ভাবতে হবে। তাহলেও পরবর্তী পদক্ষেপে ভুল হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।
এসব ছাড়াও তাৎক্ষণিক আবেগ নিয়ন্ত্রণেরও কিছু অব্যর্থ কৌশল আছে। তা হলো -


শ্বাস নিয়ন্ত্রণ : শান্ত হয়ে মোটামুটি নিরিবিলি কোনো জায়গা খুঁজে সেখানে বসতে হবে। কিছুক্ষণ স্বাভাবিক শ্বাস নেয়ার পর খুব ধীরে নাক দিয়ে ফুসফুসভরে শ্বাস নিয়ে তা ভেতরে ধরে রাখতে হবে এবং ১, ২, ৩ ও ৪ পর্যন্ত গুনতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস বের করে দিতে হবে।


ইতিবাচক ভঙ্গি রপ্ত করা : চলাফেরা ও কাজেকর্ম ধীর, আত্মবিশ্বাসী ও ইতিবাচক ধ্যান-ধারণা এবং অঙ্গভঙ্গি ধরে রাখতে হবে। বসা বা দাঁড়ানো কিংবা হাঁটাচলার সময় ভগ্ন হৃদয় অ্যাবা ত্রিভঙ্গ মুরারি না হয়ে সোজা ও দৃঢ় এবং স্মার্ট ভাবটিই প্র্যাকটিস করতে হবে। সোজা কথা, তাৎক্ষণিক আবেগ নিয়ন্ত্রণে ভাবতে হবে কন্ট্রোল ইওর আবেগ বাট ডোন্ট লেট ইট কন্ট্রোল ইউ।


হালকা ব্যায়াম : এ ব্যাপারে খুবই কার্যকর ব্যায়াম। ব্যায়ামের বদলের হাঁটার অভ্যাসও করা যেতে পারে। হাঁটার ফলে এন্ড্রোফিন নামক রাসায়নিক পদার্থের সিক্রিয়েশনে মুড পজিটিভ হয়ে যায়। তবে আবেগ নিয়ন্ত্রণে তখনই হাঁটা শুরু করাটা মনে হয় সঠিক হবে না।


লেখালিখি : এটি একটি দারুণ কৌশল! লেখালিখি করে মনের আবেগগুলো বের করে দেয়া যায়। এক সপ্তাহ বা এক মাস পর সেসব পড়ে নিজেকে চিনে নিতে হবে কোন বিষয়গুলো আবেগের প্রতি প্রভাবিত করে। এবার ওইসবের নিয়ন্ত্রণ সহজ! এভয়েড অর কন্ট্রোল অর কন্ট্রোল অলটার ডিলিট।


নিজের কথাগুলো বলুন : শেয়ারিং একটি ভালো উপায়। মনের কথাগুলো, দুঃখ বোধ বা কষ্ট অন্যের সঙ্গে শেয়ার করা! ফোন দিয়ে বা মুখোমুখি বলা যেতে পারে। তবে সাবধান, বন্ধু ভেবে হিংসুটে কোনো শত্রুকে মনের ভাব বলে ফেললে ভবিষ্যতে খবর আছে।


জীবন যাপনের ভালো বিষয়গুলো সযতেœ লালন করা : সুন্দরের প্রশংসা ও চর্চা, প্রতিদিনের ছোটখাটো আনন্দের বিষয়গুলো উপভোগ করা এই অযাচিত আবেগীয় অনিয়ন্ত্রণকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি অবশ্য সার্বক্ষণিক আবেগ নিয়ন্ত্রণের কৌশল প্র্যাকটিস হিসাবেই কাজ করে।


দূরদর্শিতা : কথায় আছে, ‘ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না।’ আবেগ আপ্লুত হয়ে রাগ, দুঃখ ও ক্রোধে অন্ধ হওয়ার আগে ভাবতে হবে, ওই আবেগ আপনাকে কোথায় নিয়ে যাবে। আবেগের ফাঁদে এ জীবন সংকটে পড়বে না তো! দূরদর্শী চিন্তা-চেতনাই আবেগ নিয়ন্ত্রণে রেখে ভবিষ্যতের পথে হাঁটতে সাহায্য করবে।
এছাড়া কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে


পর্যাপ্ত ঘুম : আবেগ যখন অনিয়ন্ত্রিত হয় তখন ঘুম কমে যায় বা অনিদ্রা হয়। কারো সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ, ব্রেকআপ এসব রাতের ঘুম হারাম করে দেয়। এটি বেশ কয়েকদিন, মাস, বছরও পার করতে পারে। এই ঘুম হারাম হওয়া ব্যাপারটিতে যেভাবেই হোক সতর্ক থাকতে হবে। পর্যাপ্ত আরামদায়ক ঘুমের পর রাগ, দুঃখ, ক্রোধ, ক্ষোভ অনেক আবেগই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।


ভালো পরিকল্পনা : ভালো পরিকল্পনা না থাকলে যে কোনো কাজেই সফলতা পাওয়া একটু কঠিন। আর ওই অসফলতা বা ব্যর্থতাও মানুষিক অবসাদ কিংবা আবেগ নিয়ন্ত্রণ হারাতে কাজ করে। তাই ভালো পরিকল্পনাকারী হয়ে কাজ শুরু করাটাই উত্তম।
নিজের জন্য কিছু সময় ও আত্মকথন : নিজের সঙ্গে নিজের কথা বা নিজেই প্রশ্ন করা কিংবা উত্তর খুঁজে বের করা এসবও আবেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। নিজের জন্য কিছু আনন্দময় কাজ খুঁজে বের করা বা একান্ত সময় কাটানোও আবেগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই তো টক টু দাইসেলফ অ্যান্ড ইনক্রিজ ইওর অন ক্রিয়েটিভিটি বা ক্রিয়েটিভ থিকিং অর থটফুল আইডিয়াস।

এবার আসি মজার এবং খুবই এফেক্টিভ একটি বিষয়ে। দিস ইজ কলড নাইটি বা টেন প্রিন্সিপাল-
টেন পার্সেন্ট অফ লাইফ ইজ মেডআপ হোয়াট হ্যাপেনস টু ইউ বাট নাইন্টি পার্সেন্ট অফ লাইফ ইজ ডিসাইডেড বাই হাউ ইউ রিঅ্যাক্ট... মানেটা কী? আমাদের জীবনে ঘটে যাওয়া অপ্রত্যাশিত ঘটনায় ১০ শতাংশের উপর নিজের কোনো হাত থাকে না, থাকে না কোনো নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু বাকি ৯০ শতাংশ আলাদা। এটি আমরা নিয়ন্ত্রণ করতেই পারি। তা কীভাবে! আমাদের রি-অ্যাকশনের মধ্য দিয়ে। মানে, আমরা কীভাবে রিঅ্যাক্ট করবো ঘটনাটির প্রতি।
একটা গল্প বলি। একদিন সুন্দর এক সকালে মা-বাবা আর ছোট্ট একটি মেয়ে সবাই মিলে আনন্দে সকালের ব্রেকফাস্ট করছিল। হঠাৎ মেয়েটি এক কাপ কফি বাবার গায়ে ফেলে দিল। বাবার অফিসের পোশাক নষ্ট হয়ে গেল। এখানে কফি পড়ে যাওয়ার ঘটনাটিতে কারো নিয়ন্ত্রণ করার উপায় ছিল না। কিন্তু এর পরের ঘটনাগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যেতো কীভাবে তিনি রিঅ্যাক্ট করবেন এর ওপর। বাবা রেগে গেলেন। অনেক চিল্লাচিল্লি বকাঝকা! শিশুটি কান্না করতে শুরু করলো। শুধু তা-ই নয়, তাকে বকাঝকা করেও বাবার হলো না। তিনি মায়ের ওপর চড়াও হলেন, চিৎকার-চেঁচামেচি করলেন। তার জামাকাপড় বদল এবং শিশুর ব্রেকফাস্ট দেরি, স্কুলবাস মিস। তাড়াতাড়ি বাবাকে কারে করে স্কুল নিতে হলো। তাড়াহুড়ায় যে কোনো মুহূর্তে তখন অ্যাক্সিডেন্ট হয় হয়! শিশু স্কুলে মুখ গোমরা করে ঢুকলো বাবাকে কোনোই হাই অর বাই না বলেই। অফিসে পৌঁছে বাবা দেখলেন ব্রিফকেসটাই ভুলে গেছেন। সমস্ত কাজ ভ-ুল। সারা দিনটাই নষ্ট হয়ে গেল এভাবেই...। বাড়ি ফেরার পরও সবই থমথমে। কারণ সকালের ব্যবহার। কেন সারা দিন খারাপ গেল?
কফিটাই কারণ?
নাকি ওই শিশুই কারণ?
নাকি মা-ই কারণ?
নাকি বাবাই তার কারণ?


উত্তর তো সকলের জানা ৪ নম্বরটিই। এ একজনই। কফি পড়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ ছিল না কারো। কিন্তু ওই ৫ সেকেন্ডের রিঅ্যাকশন বদলে দিল সব। এটা যদি হতো এমন কফি পড়ে গেল আর বাবা বলতেন, ওহ বেবি, নেক্সট টাইম বি কেয়ারফুল। এরপর কাপড় বদলে সব ঠিকঠাক নিয়ে এসে দেখতেন শিশু নাশতা খেয়ে বাসে চলে গেছে। তাহলে তাড়াহুড়া বা দেরি হতো না অফিসে। ওই শিশু মনটা খারাপ করতো না, স্কুল বাসও মিস হতো না। বাবার ব্রিফকেস নিতে ভুল হতো না। একটু খেয়াল করলেই দেখা যায় এই পার্থক্যটা। ঘটনার শুরুটা একই হলেও শেষ হতো অন্যভাবে। কারণ ওই ১০ শতাংশে আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। কিন্তু বাকি ৯০ শতাংশে আছে। কাজেই সদা ও সর্বদা মনে রাখতেই হবে, ওই ৯০ঃ১০ আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার গূঢ় উপায়টি।


ইমোশনাল সেফ জোন : শেষ হইয়াও হইলো না শেষ...। সেফটি বলতে আমরা শুধু ফিজিকাল সেফটিই বুঝে থাকি। তাই কীভাবে অ্যাকসিডেন্ট না হবে, সিটবেল্ট বাঁধা হবে, লাইফ জ্যাকেট পরা এসব নিয়েই সচেতন থাকি। কিন্তু আমাদের ভেতরের ক্ষতি ও নিরাপত্তা বা অনিরাপত্তা বোধ এটা নিয়ে কয়জন ভাবি? হঠাৎ বা ধীরে ধীরে কিংবা যখন-তখন এই নিরাপত্তার অভাব বোধ হতে পারে। লজ্জা, ভয়, ত্রাস বা সংশয়, কষ্ট গ্রাস করে নিতে পারে। নিজের দিকে তাকিয়ে দেখুন। এই ক্ষুদ্র বা বৃহৎ জীবনে আপনি কি ইমোশনাল সেফটির প্রয়োজন বোধ করেছেন? ইচ্ছা হলে এখন থেকে একটি ডায়রি মেইনটেইন করুন। কোন কোনদিন কোন কোন ঘটনায় আপনি ইমোশনাল সেফ ফিল করেননি? সেসব নিয়ে ভাবুন। এই ইমোশনাল সেফটিটাও খুবই প্রয়োজন! জীবনে চলার পথে এসব ঘটনা থেকেই নিজের সেফটি গড়ে তুলুন। এ জন্য প্রয়োজন আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা। পরিশেষে বলবো, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন। গড়ে তুলুন নিজের মধ্যে ও আশপাশের সবার জন্য দারুণ এক শারীরিক, মানসিক এবং পারিপার্শ্বিক নিরাপদ, সুখী ও সমৃদ্ধ জীবন...।

 

লেখা : শায়মা হক
মডেল : তামান্না খান
ছবি : আরাফাত

 

হাতঘড়ি

 

ফ্যাশন শুধু নারীদের- এমন ধারণা করার দিন অনেক আগেই শেষ হয়েছে। অধুনা পুরুষরাও বেশ ফ্যাশন সচেতন হয়ে উঠছেন। তবে ফ্যাশন সচেতন পুরুষ বলতে এটি বোঝায় না যে, তারা ব্র্যান্ডের পোশাক ও অ্যাকসেসরিজ ছাড়া অন্যকিছু ব্যবহার করতে চান না। একটু বুদ্ধি খাটিয়ে হাতের কাছে পাওয়া নানান জিনিস ব্যবহার করে এবং কম খরচেও অনেক ফ্যাশনেবল হয়ে ওঠা যায়। তাই পয়সা খরচ করে নয়, মাথা খাটিয়ে ফ্যাশনেবল হয়ে উঠুন। এখন চলুন দেখে নেয়া যাক পুরুষদের ফ্যাশনের জরুরি কিছু বিষয় অর্থাৎ নিজে যা পরছি তাতে ফ্যাশন বহন করতে পারছি কিনা সেটিই জরুরি।

সময় দেখার জন্য তো বটেই, ফ্যাশনের ক্ষেত্রে সমান গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ যে জিনিসটি এর নাম হাত ঘড়ি। তাই প্রয়োজন আর ফ্যাশনের অপূর্ব সমন্বয় হলো হাত ঘড়ি। আগে অবশ্য সময় দেখার জন্যই ঘড়ির ব্যবহার ছিল। কিন্তু সব কাজের কাজি মোবাইল ফোনের আবির্ভাবে ঘড়ির প্রয়োজনীয়তা কমতে কমতে প্রায় নিঃশেষ হওয়ার আগেই ফ্যাশন অনুষঙ্গ হিসেবে আবারও হাত ঘড়ির প্রচলন শুরু হয়েছে। ব্যক্তিত্ববান পুরুষের প্রয়োজন আর ফ্যাশনের সম্মিলন ঘটেছে হাত ঘড়িতে।

বর্তমানে তরুণদের পছন্দের তুঙ্গে রয়েছে মোটা চেইন ও বড়ো ডায়ালের ঘড়ি। টিনএজাররা বরাবরই স্পোর্টস ঘড়ি পরতে বেশি পছন্দ করে। কেউ আবার পছন্দের সিলেব্রিটির পছন্দকেই নিজের পছন্দ হিসেবে বেছে নিতে চান। তাদের গেটআপ আর ঘড়ি- দুটিই যেন রপ্ত করা যায়।
চাকরিজীবী ও ছাত্রদের ফ্যাশন বরাবরই সময় সম্পর্কিত। তাই হাল ফ্যাশনে পোশাকের সঙ্গে ঘড়ি তাদের সব সময় প্রয়োজন ও অপরিহার্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে মানানসই বিষয়টি যে খুব গুরুত্বপূর্ণ তাদের কাছে, ব্যাপারটি ঠিক তেমন নয়। বেমানান বিষয়গুলোও কখনো কখনো তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই ওই বহন করতে পারার বিষয়টি আবারও উঠে আসে এখানে। ফলে চিকন হাতে খুব ভারী বা বেল্টের ঘড়ি স্থান করে নিতে পারে অনায়াসে।
ঘড়ির বাজারে নামি-দামি ব্র্যান্ড আছে। তবে সব সময় যে নামি-দামি ব্র্যান্ডেই অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাবে তা নয়, বরং অনেক সময় কম দামের ঘড়িও হতে পারে সঠিক ফ্যাশন অনুষঙ্গ। টাইটান, সিটিজেন, রাডোসহ নানান ব্র্যান্ডের ঘড়ি পাবেন ২ হাজার ৫০০ থেকে লাখ টাকার উপর পর্যন্ত। বসুন্ধরা সিটি ও যমুনা ফিউচার পার্কে এসব ঘড়ির দোকান আছে। এছাড়া বায়তুল মোকাররম মার্কেটেও ব্র্যান্ডসহ ঘড়ির অনেক দোকান রয়েছে। একেক ধরনের পোশাকের সঙ্গে একেক রকম ঘড়ি মানানসই। সময় ও পরিবেশ বুঝে পরার জন্য ক্যাজুয়াল, ফরমাল, এক্সক্লুসিভ- এই তিন ধরনের ঘড়ি রাখা যেতে পারে সংগ্রহে।
অনেক ফ্যাশন ডিজাইনারই বলেন, আসলে পার্টি বুঝে পোশাকের সঙ্গে ঘড়ির ব্যাপারে পুরোটাই নির্ভর করে নিজের ব্যক্তিত্বের ওপর। নিজেকে কোন ধরনের পোশাকে ভালো লাগছে তা আগে বুঝতে হবে। বুঝতে হবে কোথায় ও কোন পরিবেশে যাচ্ছি। এর ওপর ভিত্তি করেই হাত ঘড়ি বাছাই করে নিতে হবে। চওড়া বেল্টের হাত ঘড়ির প্রচলন বেশি বলেই যে এ ধরনের ঘড়ি পরতে হবে তা নয়। সবার আগে দেখতে হবে যে ঘড়িটি পরছি তা ভালো দেখাচ্ছে কিনা কিংবা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি কিনা।
ক্যাজুয়াল লুকের ক্ষেত্রে চেইন ও বড় ডায়ালের ঘড়িই বেশি জনপ্রিয়। আর অফিসে ফরমাল লুকের জন্য মাঝারি ডায়ালের চামড়া চেইনের ঘড়ি মানাবে। বন্ধুদের আড্ডা বা ক্যাজুয়াল পার্টিতে বড় ডায়াল ও চওড়া বেল্টের হাত ঘড়ি পরা যেতে পারে। আবার ফরমাল অনুষ্ঠানে নিজেকে খেয়াল রাখতে হবে ভালো ব্র্যান্ডের মার্জিত সাইজের ঘড়ির দিকে।
সবশেষে বলা যায়, সব শেষ বলে আসলে কিছুই নেই। যা পরতে নিজের কাছে ভালো লাগে সেটিই হবে উপযুক্ত ফ্যাশন। আর নিজের অনন্যতা এনে দেবে নিজস্ব একটি স্টাইল। কে জানে, একদিন হয়তো নিজের স্টাইলের জোয়ারে ভাসতে পারে পুরো পৃথিবীও!

 

 লেখা : সহজ ডেস্ক 

ব্যাগ ও ফ্যাশন

 

হ্যান্ডব্যাগ নারীর প্রয়োজনীয় ফ্যাশনেবল অনুসঙ্গ। ফ্যাশনে ও পার্টিতে হ্যান্ড ব্যাগের চাহিদা ব্যাপক। নিত্যনতুন ডিজাইনের হ্যান্ড ব্যাগের ব্যবহার শুধু সুপার মডেল, সেলিব্রিটি, ফটোশুট ও ক্যাটওয়াকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। নারীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় অ্যাকসেসরিস হিসেবে হ্যান্ড ব্যাগের বিকল্প নেই বললেই চলে। নানাধরনের পার্টি, ফ্যাশন শো অথবা বেড়ানোর জন্য পোশাকের পরই হ্যান্ড ব্যাগের স্থান। হ্যান্ডব্যাগের মানানসই ব্যাপারটি নিয়ে বর্তমানে নারীরা এতো সজাগ যে, এর জন্য পর্যাপ্ত সময় ও অর্থ ব্যায় করে পছন্দসই ব্যাগটি সংগ্রহ করতে দ্বিধাবোধ করেন না। নারীর হ্যান্ড ব্যাগ নারীর বর্তমান সময়কে স্বপ্নময় করে তুলছে। ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবে হ্যান্ডব্যাগের কদর থাকলেও স্থান বা বয়সের তারতম্যে এর বিভিন্নতা রয়েছে। হ্যান্ড ব্যাগ ব্যাবহার বা বহন করার ব্যাপারে নিজস্ব রুচি বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী পরিবেশভেদে মনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভালো জিনিসটিই ব্যবহার করা উচিত। আসলে উপযোগী ও মানানসই হাতের ব্যাগটি শরীর ও মনের প্রশান্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। ব্যাগ পছন্দের ক্ষেত্রে নারীদের অনেক সচেতন হওয়ার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কিছু কারণ রয়েছে। তা হলো- হ্যান্ডব্যাগ অনেক ক্ষেত্রে এটি নারীর সামাজিক অবস্থান নির্দেশ করে। তারা কতোটা ফ্যাশন সচেতন ও রুচিবান তা অনুমান করা যায়। তাদের সোস্যাল স্টাটাসের ইঙ্গিত করে।


শতবর্ষ আগে নারীরা বাইরে কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে খুব একটা জড়িত ছিলেন না। তখন তারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ‘পার্স’-এ রাখতেন। আর আমাদের উপমহাদেশের সব নারীরা কাপড়ে বেঁধে রাখতেন। আর এখন দিন বদলেছে এখন গ্রামের নারীরাও বাহারী হ্যান্ডব্যাগ ব্যবহার করেন। প্রথম ষোড়শ শতকের দিকে বিলেতে বহনযোগ্য ব্যাগের ব্যবহার শুরু হয়। তখন বিভিন্ন মুদ্রা আলাদা করে রাখতে ছোট ছোট ব্যাগ ব্যবহার করা হতো। এরপর অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতকের দিকে হাতে ব্যাগ বহন আধুনিকতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।


সারা বিশ্বের তরুণী ও বয়স্কদের মধ্যে ব্যাগ পছন্দের ক্ষেত্রে তারতম্য দেখা যায়। মধ্যবয়স্ক নারীরা লেদার, আর্টিফিশিয়াল লেদার ও বিভিন্ন কাপড়ের তৈরি অতি সাধারণ কিন্তু মানসম্পন্ন ব্যাগ বেছে নেন। তরুণীরা গর্জিয়াস অ্যাপলিং টাইপের ব্যাগ পছন্দ করেন। মিটিং, পার্টি, অনুষ্ঠানসহ অনেক ক্ষেত্রে ব্যাগ ছাড়া আপনার কাছেই নিজেকে বেমানান মনে হবে। সাজ-গোজ ও পোশাকের সঙ্গে নিজের রুচি অনুযায়ী ব্যাগের কম্বিনেশন করে নিতে হয়। আবার জুতোর সঙ্গেও মিল থাকা চাই ব্যাগ কিংবা পোশাকে। আবার এগুলোর কোনো একটি রঙ থাকতে পারে ব্যাগে- এমন পরামর্শ এখন হয়তো আর পাবেন না ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে। বর্তমানে ব্যবহারে আরামদায়ক ও নিজের সঙ্গে মানানসই ব্যাগের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে ক্রেতাদের। বাজারে চামড়া, কাপড়, পাটসহ বিভিন্ন উপাদানের ছোট, বড় ও মাঝারি আকারের ব্যাগ পাওয়া যাচ্ছে। এর পাশাপাশি পার্টি ব্যাগ ও বটুয়ার জনপ্রিয়তাও অনেক। অনুষ্ঠানে শাড়ি পরলে সঙ্গে মানিয়ে ছোট আকারের ব্যাগ, ক্লাচ বা বটুয়া নিলে দেখতে ফ্যাশনেবল দেখায়। আর এখন তো বাজারে বিভিন্ন রঙের ব্যাগ পাওয়া যায়। তাই পছন্দসই আকারের বিভিন্ন রঙের ব্যাগ নিজের কালেকশনে রাখতে ভালোই

লাগে। বিভিন্ন উৎসব ও অনুষ্ঠানে একটু বড় আকারের পার্টি ব্যাগ ও ক্লাচ বেশ জনপ্রিয়। দেশের বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে এখন ফ্যাশনেবল পোশাকের পাশাপাশি ক্রেতার চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে মানানসই ব্যাগও রাখা হয়। চামড়ার ওপর পাথরের নকশা ও মখমলের কাজ করা হয় পার্টি ব্যাগে। এছাড়া হাতে এমব্রয়ডারি করা পুঁতি বসানো, কাপড়ের ওপর পুঁতির কাজ করা, শীতল পাটি, পাট ও জুয়েলারি স্টোনের পার্টি ক্লাচও পাওয়া যায়। শাড়ি, স্কার্ট বা লেহেঙ্গার সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায় বটুয়া। কাপড়ের ওপর লেইস বসানো বা ভেলভেটের বটুয়া পাওয়া যাবে যে কোনো বুটিকে।
প্রয়োজনের চেয়ে যেন ইদানীং ফ্যাশন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ যেন আভিজাত্য ও স্টেটাস সিম্বল। বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ব্যাগের ফ্যাশন। ছেলে ও মেয়ে-উভয়ের ফ্যাশনে পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে মানানসই বাহারি রঙের বিচিত্র নকশার ছোট-বড় ব্যাগ অন্যতম অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। তাই অনেকেই যে কোনো পরিবেশে একটি ফ্যাশনেবল ব্যাগ ছাড়া নিজেকে অসম্পূর্ণ মনে করেন।
বর্তমানে ব্যবহারে আরামদায়ক ও নিজের সঙ্গে মানানসই ব্যাগের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে ক্রেতাদের। বাজারে চামড়া, কাপড়, পাটসহ বিভিন্ন উপাদানের ছোট, বড় ও মাঝারি আকারের ব্যাগ পাওয়া যাচ্ছে। এর পাশাপাশি পার্টি ব্যাগ ও বটুয়ার জনপ্রিয়তাও অনেক।


অনুষ্ঠানে শাড়ি পরলে সঙ্গে মানিয়ে ছোট আকারের ব্যাগ, ক্লাচ বা বটুয়া নিলে দেখতে ফ্যাশনেবল দেখায়। আর এখন তো বাজারে বিভিন্ন রঙের ব্যাগ পাওয়া যায়। তাই পছন্দসই আকারের বিভিন্ন রঙের ব্যাগ নিজের কালেকশনে রাখতে ভালোই লাগে।
বিভিন্ন উৎসব ও অনুষ্ঠানে একটু বড় আকারের পার্টি ব্যাগ ও ক্লাচ বেশ জনপ্রিয়। দেশের বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে এখন ফ্যাশনেবল পোশাকের পাশাপাশি ক্রেতার চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে মানানসই ব্যাগও রাখা হয়। চামড়ার ওপর পাথরের নকশা ও মখমলের কাজ করা হয় পার্টি ব্যাগে। পার্স পাওয়া যায় পার্টি কিংবা ক্যাজুয়ালে। শাড়ি কিংবা জমকালো কামিজের সঙ্গে হাতে ম্যাচ করা ঝলমলে পার্স না থাকলেই নয়।
বক্স ব্যাগ এটি শক্ত বক্স আকারের। ছোট-বড় সবই আছে। ছোট হাতল থাকে। কালো রঙের ব্যাগের ওপর থাকে সোনালি কাজ করা। এছাড়া চকলেট, বাদামি রঙগুলো বেশি চলে। আবার এখন ওপরে রাবারের মতো নতুন নকশার কিছু ব্যাগ পাওয়া যায়। সামনে থাকে লক সিস্টেম চারকোণা গড়নের।

ক্লাচ ব্যাগ ফ্যাশনে সব সময় এগিয়ে ক্লাচ ব্যাগ। চারকোণা, ডিম্বাকৃতি, গোলাকৃতি, পানপাতা, তিনকোণা, কাঠের হাতলসহ বাজারে রয়েছে নানান আকারের ক্লাচ ব্যাগ। এ ব্যাগগুলো হয় ডুয়েট স্টাইলের। হাতে নেয়া ছাড়াও সরু চেইন দিয়ে কাঁধেও ঝোলানো যায়। নকশাও নজরকাড়া। কোনো ব্যাগের শরীর ঢাকা নরম পালকে, কোনোটিতে মেটাল বা লেদার আবার কোনোটি শার্টিনের কাপড়ের নকশাদার আবরণ। তবে এখন বেশ জনপ্রিয় ছোট্ট বাক্সের মতো দেখতে ক্লাচ ব্যাগ ও চৌকো আকৃতির লেদার স্লিম ব্যাগ।

প্রয়োজনের চেয়ে যেন ইদানীং ফ্যাশন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ যেন আভিজাত্য ও স্টেটাস সিম্বল। বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ব্যাগের ফ্যাশন। ছেলে ও মেয়ে-উভয়ের ফ্যাশনে পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে মানানসই বাহারি রঙের বিচিত্র নকশার ছোট-বড় ব্যাগ অন্যতম অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। তাই অনেকেই যে কোনো পরিবেশে একটি ফ্যাশনেবল ব্যাগ ছাড়া নিজেকে অসম্পূর্ণ মনে করেন।

 

লেখা : সহজ ডেস্ক
মডেল : নুসরাত শ্রাবণী
ব্যাগ ও আয়োজন : সিয়াকা
ছবি : ফারহান ফয়সাল

উৎসবে লাস্যময়ী ল্যাম্প

 



আলো ছাড়া একটা দিন কল্পনা করুন তো! মনে করুন, আপনার চারপাশ ঘিরে আছে অন্ধকার আর অন্ধকার! কি, ভয় লাগছে? এটি প্রমাণিত সত্য, শক্তি ও উদ্দীপনা সরবরাহ করে প্রতি মুহূর্তে আমাদের চারপাশে ঘিরে থাকে আলো। আলোর সঠিক ব্যবহারই একটি বাসস্থান দর্শনীয় করে তুলতে পারে। যে কোনো উৎসবে আপনার বাড়িতে আলোর প্রক্ষেপণ দিতে পারে ভিন্নমাত্রা। প্রাত্যহিক কাজগুলো সহজ-স্বাচ্ছন্দে করতে সঠিক মাত্রায় আলোর ব্যবহার যেমন সাহায্য করে তেমনি উৎসবে নানান আয়োজনে আপনার রুচির পরিচয় দেয় অতিথি ও বন্ধু-বান্ধবের কাছে। স্থান বুঝে আলোর উপযুক্ত ব্যবহার আপনার গৃহে দিতে পারে নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিবেশ। বিভিন্ন লাইটের সাহায্যে ঘরে আনা যায় আলোর নতুন মাত্রা। সঠিক মাত্রায় আলোর ব্যবহারে একটি সাধারণ গৃহকোণ হয়ে ওঠে অসাধারণ ও শৈল্পিক। চাইলে আপনি সহজেই উৎসবে নতুন আর ভিন্ন লাইট স্থান বুঝে ব্যবহার করে নতুন চমক সৃষ্টি করতে পারেন। বিভিন্ন আকার, আকৃতি ও ডিজাইন অনুযায়ী সঠিক লাইটটি ব্যবহার করতে পারলে আপনার শুধু লিভিংরুমে বা বেডরুমেই নয়Ñ ঘরের সব জায়গায় বৈচিত্র্য ও রুচির অপূর্ব সমন্বয়ে সৃষ্টি করতে পারেন এক মোহময় আবহ।

পছন্দ অনুযায়ী বাড়ির ভেতরে আলোর ব্যবহার ঠিক করার চেয়েও জরুরি ঘরের সাজের সঙ্গে মানানসই আলোর ব্যবহার। আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে, যে লাইটগুলো কিনছেন তা শুধু স্টাইলিশই নয়Ñ যে জায়গাটিতে ওই লাইটগুলো ব্যবহার করবেন সেখানকার জন্য কার্যকরও বটে। উদাহরণস্বরূপÑ পেনডেন্ট লাইটগুলোর শব্দ শুনতে কিংবা দৃশ্যত এর আবেদন থাকলেও তা কিচেনের কাজে কতোটা উপযোগী বা আসলে আপনার হাতের কাজগুলোর জন্য অনুকূল কি না সেটি ভেবে দেখা জরুরি। তাই কেনার আগে লাইটের বিভিন্ন ধরন সম্পর্কে জেনে নেয়া যেতে পারে। চিলড্রেন্স রুমে আলোর ডিরেকশন চেঞ্জ করে রুমে নতুনত্বের ছোঁয়া দেয়া যায়। ঠিক তেমনি রুমে ল্যাম্পের ব্যবহার অনিন্দ্য এক চেহারা দিতে পারে আপনার ঘরের। উৎসবের আমেজে ভরিয়ে তুলতে আপনি আপনার কমন স্পেস ও সদর দরজার সামনে ওয়াল ল্যাম্প বা রিসেসড লাইট ব্যবহার করতে পারেন।

পেনডেন্ট বা ঝোলানো লাইট
এই লাইট কর্ড, চেইন বা ধাতুর সাহায্যে ছাদ থেকে ফিক্স করে ঝুলিয়ে দেয়া হয়। এই লাইটে সাধারণত একটি চেইনের শেষে বাল্ব থাকে। তাই এটি বেশি জায়গা পূরণ করতে পারে না। তবে ইদানীং বাজারে বিভিন্ন আকার ও ডিজাইনের এই লাইট সহজলভ্য। যেমনÑ সিলিন্ডার শেপ, গোলাকার শেইপ বা ফানেলের শেইপে পাওয়া যায়। এটি সাধারণত একটি ছোট, নির্দিষ্ট এলাকা তথা রান্নাঘরের মাঝখান বা ডাইনিংরুমে টেবিলের মাঝখান বরাবর সেট করলে আলোর ব্যবহার সঠিক ও যথাযথ হয়।

শ্যান্ডেলিয়ার বা ঝাড়বাতি
শ্যান্ডেলিয়ার বা ঝাড়বাতি বড় ইউনিটে মিলিত একাধিক বাল্বের চমকপ্রদ সমাহার। শ্যান্ডেলিয়ার এক অসম্ভব সুন্দর আলোর উৎস। ঐতিহ্যগতভাবে এটি সুরুচিপূর্ণ অভিজাত ও ব্যয়বহুল। তাই এর ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কম। সাধারণত বাড়ির ভেতরে প্রবেশপথ বা ড্রইংরুম, হলরুমে
এর ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায়।  

ওয়াল স্কনস বা ওয়াল ল্যাম্প
ওয়াল স্কনস বা ওয়াল ল্যাম্প সাধারণত ব্যবহার করা হয় আলোকসজ্জায় নতুন আবহ যোগ করার জন্য। ওয়াল ল্যাম্প হচ্ছে ওয়ালে আটকানো এক ধরনের লাইট। এই লাইটে সাধারণত অল্প আলো ও কম স্পন্দনশীল আলোর ব্যবহার হয়ে থাকে। এটি হলরুমের কর্নার বা প্রবেশদ্বারের কাছাকাছি ব্যবহার করা যেতে পারে।

রিসেসড লাইট
স্পেস যদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয় তাহলে রিসেসড লাইট আদর্শ এবং অবশ্যই অসাধারণ বিকল্প। কারণ এই লাইটের জন্য মোটেও আলাদা কোনো স্পেসের দরকার না। সিলিং বা ফলস সিলিংয়ের ভেতরে সরাসরি লাইটগুলো লাগানো থাকে। এই লাইটগুলো কিচেন, লিভিংরুম ও বিশাল আকৃতির রুমে অনেক আলোর তীব্রতা বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেসব জায়গায় আলো বেশি দরকার বা অন্ধকার স্থানে অতিরিক্ত আলোর জন্য মেঝে ও দেয়ালগুলোয় এ লাইটগুলো লাগানো যেতে পারে। একটি সাধারণ  স্পেস অসাধারণ করে তুলতে এটি ব্যবহার করা হয়। এখানে আলোর উৎস গোপন থাকার কারণেই এটি অনেকের পছন্দ।

আলো আমাদের চারপাশ হৃদয়ঙ্গম করার ক্ষেত্রে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। কোন জায়গা কী কাজের জন্য এবং কোথায় কী ধরনের কাজের স্বাচ্ছন্দ্য হতে পারে তা বোঝা যায় ও চিনিয়ে দেয় আলোর ব্যবহারই। এমনকি আমরা যে স্থানে আছি সেখানকার আবহ এবং যে কাজ করছি এর পরিবেশ প্রভাবিত করতে পারে আলোর কার্যক্ষমতা। উৎসবে তাই গৃহের সাজে অনন্য মাত্রা দিতে আপনিও ব্যবহার করতে পারেন নানান ধরনের লাইট।

 


লেখা : সহজ ডেস্ক
ছবি : ইন্টারনেট

ঈদের মেকআপ

 



যে কোনো সাজ, সাধারণত পোশাক আবহাওয়া এবং দিন-রাত ও সময়ের ওপর নির্ভরশীল। তাই উল্লেখিত বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে সাজার পরিকল্পনা করা উচিত। আর ঈদ মানেই আনন্দ উৎসব। এই আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করতে চাই বিশেষ সচেতনতা। এবার ঈদের সাজে বৃষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখে ব্যবহার করা উচিত ওয়াটার প্রুপ কসমেটিক।

চলুন দেখে নেয়া যাক স্পা বিশেষজ্ঞ ‘হারমনি স্পা’ ও ‘ক্লিওপেট্রা বিউটি স্যালনের স্বত্বাধিকারী রাহিমা সুলতান রীতা এবার ঈদ উপলক্ষে সাজ বিষয়ে কী বলেছেন-

মেকআপ করার আগে কিছু বিশেষ টিপস মেনে চলা উচিত। মেকআপের আগে আলু ও শসার রস এক সঙ্গে মুখে মাখুন। এতে ত্বকে তরতাজা ভাব আসবে। ময়েশ্চরাইজার অবশ্যই লাগাতে হবে। এ কারণে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে এবং শুষ্ক হওয়া থেকে প্রতিরোধ করবে।

মুখের মেকআপ

ফাউন্ডেশন : শুরুতেই ত্বকে কোনো দাগ থাকলে কনসিলার দিয়ে ঢেকে নিন। এরপর ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফাউন্ডেশন নির্বাচন করুন। যেমনÑ শুষ্ক ত্বক হলে ওয়াটার বেইজড ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফাউন্ডেশন ব্যবহার করলে মেকআপ অনেক সময় থাকে। তবে ফাউন্ডেশন ব্যবহার করার সময় ত্বকের রঙের চেয়ে এক শেড হালকা রঙ বেছে নিন। এরপর একটি ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে ত্বকে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে বেইজ বসিয়ে নিন। পরে কমপ্যাক্ট পাউডার দিয়ে বেইজ মেকআপ শেষ করুন।
ব্লাশন : শুষ্ক ত্বকে ক্রিম ব্লাশন ও তৈলাক্ত ত্বকে পাউডার ব্লাশন দিন। এবার চিক-বোনের ওপর ব্লাশন বুলিয়ে নিন। আপনার গায়ের রঙ উজ্জ্বল, হালকা পিংক বা পিচ কালার ও গাঢ় হলে ব্রোঞ্জ কিংবা ব্রাউন কালারের ব্লাশন ব্যবহার করুন। আর রাতের পার্টি হলে ব্লাশনের ওপর হালকা শিমার ব্যবহার করলে মেকআপ আরো গর্জিয়াস হবে।

চোখের মেকআপ

শুরুতেই আইশ্যাডো ফিক্সার জেল লাগিয়ে ৫ মিনিট রাখুন। তবে চোখ আর্কষণীয় করতে হলে শ্যাডোর ব্লেন্ডিং খুব ভালো করতে হবে। এ জন্য নাকের পাশে হালকা রঙ, মাঝে বা আইবলের ওপর গাঢ় রঙ এবং চোখের বাইরের কোণে হালকা রঙের শেড দিন। চোখ যদি ছোট হয় তাহলে চোখের বাইরের কোণে হালকা কালো কালারের শেড ব্যবহার করলে চোখ বড় দেখাবে। আপনার চোখের সাজ হবে সফট স্মোকি। আই ভ্রƒ-বোন এর ওপর লাইট শিমারিং শ্যাডো দিয়ে হাইলাইট করুন।

ঠোঁটের মেকআপ

ঠোঁটের মেকআপ শুরুর আগে অবশ্যই বেইজ মেকআপ করে নিতে হবে। তাহলে লিপস্টিকের রঙ হবে দীর্ঘস্থায়ী এবং আসল রঙ চলে আসবে। প্রথমে উপরের ঠোঁটের দুই ভাঁজের সেন্টার পয়েন্ট থেকে ন্যাচারাল কালারের লাইনার দিয়ে নিচের ঠোঁট পর্যন্ত এঁকে নিন। এবার পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে লিপস্টিক দিন। লিপস্টিক ব্যবহার করার পর টিশু পেপার দুই ঠোঁটের মধ্যে রেখে চাপ দিয়ে নিলে সহজে কালার উঠে যাবে না। এরপর ঠোঁটের ওপর ন্যাচারাল টোনের লিপগ্লসও দিতে পারেন।

চুলের সাজ

সাজের জন্য চুল খুব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পরিপাটি চুলের সাজ রুচিশীল ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক। চুল সাজবে তো সাজবেন আপনি। তাই ঈদের জন্য আপনার চুলের সাজ ঠিক করুন আগে থেকেই। সাজের এই বিশেষ দিকটায়  যেন কমতি না হয় এদিকটাতেও লক্ষ্য রাখুন। তবে পোশাক, গহনা ও মেকআপের সঙ্গে মিল রেখে চুলের সাজও হওয়া চাই পারফেক্ট। এ সময় কেউ চাইলেই চুল ছেড়ে রাখতে পারেন আবার আলতো করে খোঁপা করেও রাখতে পারেন।

 

____________________________
মডেল : টুম্পা জামান
মেকওভার : ক্লিওপেট্রা বিউটি স্যালন
ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু

এই ঈদে আপনি...

 

 



ঈদ শব্দটি শুনতেই প্রথমে যে ভাবনা মাথায় আসে তা হলো  আনন্দ উৎসব। এটি বহু প্রতীক্ষিত খুশির আমেজে ভরপুর এক ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এই আনন্দে জড়িয়ে থাকে নানান আয়োজন। আর এই আয়োজনে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তোলার ইচ্ছা কার না থাকে! দীর্ঘ এক মাস রোজা পালনের পর বেশভূষায় ও সোন্দর্য চর্চার মধ্য দিয়ে নিজেদের উপস্থাপন করার কথা সবাই ভাবেন। এ সময় বিভিন্ন প্রস্তুতি থাকে, থাকে আয়োজন। তাই আপনার ত্বকের যত্ন থেকে শুরু করে মেহেদি, হেয়ারকাট- সবকিছুর আলোচনা থাকছে
‘সহজ’-এর ঈদ আয়োজনে।  


যত্নআত্তি
এক মাস সিয়াম সাধনা আর সবার জন্য সেহরি ও ইফতারের প্রস্তুতিতে আমরা মেয়েরা নিজের যতেœর কথা ভুলেই যাই। যদিও বা মনে থাকে তাহলেও যত্ন নেয়ার ইচ্ছা বা সময় অনেকেরই হয়ে ওঠে না। নিজের ও সবার জন্য মনমতো ঈদ শপিং এবং রান্নার আয়োজন শেষে ঈদের দিনে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত দেহ আর শুষ্ক কিংবা মলিন ত্বক নিয়ে আমরা কেউই খুশি থাকতে পারি না। চলুন তাহলে জেনে নিই কীভাবে ঈদের দিন আরো আকর্ষণীয়ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পূর্ব-প্রস্তুতি কীভাবে নিতে হবে।
ঈদে সবাই নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে চায়। এ জন্য শত ব্যস্ততার মধ্যেও আপনাকে এক সপ্তাহ আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। এবার ঈদ হবে বর্ষায়। গরম, বর্ষাÑ যাই হোক না কেন, নিজের নতুন ঈদ লুক দিতে আপনাকে কিছুটা সময় তো বরাদ্দ করতেই হবে।

ত্বক : রোদ আর গরমে আমাদের ত্বক প্রাণবন্ত রাখতে হলে নিয়মিত ক্লিনজিং, টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিং জরুরি। প্রতিদিন নিয়ম করে ত্বকের যত্ন নিতে হবে। সাত দিন আগে থেকেই প্রস্তুতি নিন। স্ক্র্যাবিং করুন। প্রতিদিন বাজারে নানান স্ক্র্যাবার পাওয়া যায়। চাইলে রান্নাঘরের উপকরণও ব্যবহার করতে পারেন। চালের গুঁড়া খুব ভালো স্ক্র্যাবার। একদিন পর পর বেসন গুঁড়া ও দুধ মিক্স করে মুখ, গলা, হাত, পা ও পিঠে ব্যবহার করুন। এতে আপনার ত্বক অনেক উজ্জ্বল হবে। শ্যামলা মেয়েরা একটু হলুদ গুঁড়া মিক্স করে নেবেন এর সঙ্গে। এছাড়া উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বকের জন্য ঈদের কমপক্ষে তিন দিন আগে হাত-পায়ে ওয়াশ করান। এর সঙ্গে পুরো শরীরে সপ্তাহে তিনবার বেসন গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া, ডিমের সাদা অংশ, দুধ ও মধু মিক্স করে ব্যবহার করুন। ফেসিয়াল করতে চাইলে তা ঈদের কমপক্ষে চার-পাঁচ দিন আগেই করে ফেলুন। ঈদের দিন শুধু মুখের সৌন্দর্য যথেষ্ট নয়Ñ মলিন হাত ও পায়ের ত্বক পুরো সাজ ম্রিয়মাণ করে দেবে। তাই সাত দিন আগে থেকেই পুরো শরীরের ত্বকের যত্ন নিতে থাকুন।

চুল : ঈদে নতুন হেয়ারস্টাইলে সবাইকে চমকে দেয়ার মজাটাই আলাদা। এক্ষেত্রে বলবো, ঈদের দু’দিন আগে পার্লারে গিয়ে প্রচ- ভিড়ের মধ্যে হেয়ারকাট না করে বরং ১৫ কিংবা ১০ দিন আগে গিয়ে বিউটি এক্সপার্টের সঙ্গে আলোচনা করে মুখের গড়ন অনুযায়ী হেয়ারকাট করুন। আমাদের সবারই মুখের গড়ন একেক ধরনের। তাই যে কাট আপনার বান্ধবীকে আরো স্টাইলিশ লুক দিয়েছে তা আপনাকে বেমানান লাগতেই পারে। সুতরাং আপনার মুখের গড়ন অনুযায়ী হোক আপনার হেয়ারস্টাইল।

মুখের গড়ন অনুযায়ী হেয়ারকাটÑ
গোলাকার শেইপ (রাউন্ড ফেইস) : গোলাকার শেপের মুখের মেয়েদের কান পর্যন্ত ব্যাসকাট খুব ভালো মানায়। এক্ষেত্রে চোখের নিচ পর্যন্ত চুল কাটাবেন। কারণ ড্রাই হওয়ার পর চুল কিছুটা উপরে উঠে যাবেই। চুলে লেয়ারকাট দিলে মুখের দু’পাশের ফোলা ভাবটা চোখে পড়ে না। এতে মুখ কিছুটা লম্বাটে দেখায়।
চারকোণা শেইপ : এ ধরনের মুখে চিবুকের অংশটি বেশ প্রশস্ত হয়। তাই আপনার চুল বেশ লম্বা হতে হবে। হেয়ারকাট এমন হতে হবে যেন চিবুকের প্রশস্ততা কম মনে হয়। চুল কার্ল করতে পারেন অথবা স্ট্রেট করে সামনে ব্যাস কাটতে পারেন। চুল যদি ছোট হয় তাহলে পেছনে গোল করে কাটুন। লেয়ারকাটও এ ধরনের মুখের জন্য খুব ভালো। এতে মুখের চওড়া ভাবটা বোঝা যায় না।
লম্বাটে শেইপ : লম্বা মুখে স্টেইট হেয়ার মুখটিকে আরো লম্বা করে। চুল উঁচু করে বাঁধবেন না। পনিটেল না করে সাইড ব্রেইড ট্রাই করতে পারেন। স্টেপকাট দিতে পারেন। স্পাইরিল বা কার্ন করে নিতে পারেন।
ডায়মন্ড শেইপ : এই শেপের ফেইস প্রশস্ত হয় আবার লম্বাটে গড়নেরও হয়। গালের হাড় যেন ছোট দেখায় এ জন্য কপাল ও চিবুকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চুল কাটতে হবে। ইদানীং এমু-কাট খুব জনপ্রিয়। লেয়ারকাটও দিতে পারেন।
ওভাল শেইপ : ওভাল শেপ অনেকটাই পারফেক্ট শেপ। তাই পনিটেল, উঁচু করে চুল বাঁধা, যে কোনো হেয়ারস্টাইল ও কাট এতে মানিয়ে যায়।
হার্ট শেইপ : সরু চিবুক ও প্রশস্ত কপালই হাট শেপ ফেইসের বৈশিষ্ট্য। কপাল ঢাকা থাকে এমন কাট তথা চায়নিজ কাট, ব্যাস ট্রাইল করুন। ছোট চুল হলে ববকাট খুব মানায়। লম্বা চুল হলে লেয়ারকাট দিতে পারেন। পেছনে আর সামনে ব্যাসকাট খুব ভালো মানাবে।

চুলের যত্ন
    শুধু স্টাইলিশ হেয়ারকাট দিলেই হবে না। রুক্ষ চুলে কোনো হেয়ারস্টাইলই ফুটে ওঠে না।
    চুলের যতেœ দুই মাস অন্তর চুলের আগা কেটে ফেলুন।
    নিয়মিত চিরুনি ও হেয়ারব্রাশ পরিষ্কার করুন।
    নিয়মিত নারিকেল তেল চুল ও মাথার ত্বকে মাসাজ করুন। আজকাল বিভিন্ন হেয়ার ট্রিটমেন্ট করা হয় পার্লারে। সেগুলোও করাতে পারেন। বাসায় যখন চুলে তেল দেবেন তখনই ভিটামিন ‘ই’ ক্যাপসুল মিক্স করে নেবেন।
    চুলের যতেœ অলিভ অয়েলও খুব ভালো।
       চুল পড়া কমাতে ও চকচকে ভাব আনতে চায়ের কড়া লিকারের সঙ্গে কাগুজি লেবুর রস মেশান। চুল ধোয়ার পর সব শেষে এ মিশ্রণটা ব্যবহার করুন।
   চুলের জন্য অ্যালোভেরা খুবই উপকারী। চুলে অ্যালোভেরা জেল দিয়ে রাতে রেখে দিন। শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে পুরো মাথা ঢেকে নিন। ঘুম থেকে উঠে চুল ধুয়ে নিন। এতে নিজের চুলের সৌন্দর্যে নিজেই অবাক হবেন।

মেহেদি রাঙা ঈদ
ঈদের চাঁদ উঠলেই বাড়ির নারীদের মেহেদির পাতা বেটে রাতভর হাতে লাগিয়ে রাখার দৃশ্য ওই ছোটবেলা থেকেই আমাদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। দিন বদলেছে, ফ্যাশন বদলেছে। কিন্তু মেহেদির সাজে হাত রাঙানো না হলে ঈদের আমেজটাই যেন পাওয়া যায় না! তাই পার্লারে গিয়ে দু’হাতভরে নিত্যনতুন ডিজাইনে হাত রাঙাতে ঈদের আগের রাতে মেয়েরা ব্যস্ত হয়ে যান। তবে বাটা মেহেদির চলনটা আজও আছে। পাড়া-মহল্লায় যে মেয়েটি খুব সুন্দর করে হাতে
‘মেহেদি ডিজাইন’ আঁকতে পারে, নিশ্চিতভাবেই চাঁদরাতে তার বাড়িতে ভিড় করে কিশোরীরা। দিন দিন মেহেদির নকশাতেও আসছে পরিবর্তন। সাধারণত তিন ধরনের ডিজাইন তথা লঙ্কা, ফুলেল ও ময়ূরÑ এগুলো সব সময়ই মেয়েদের পছন্দ। এখন ছোট করে বিভিন্ন মোটিফের ডিজাইন বেশ চলছে। হাতের ওপরিভাগে ছোট ডিজাইন কিংবা চেইন বেশ লাগে দেখতে। আজকাল কনুই পর্যন্ত মেহেদি পরার চলনটা বেশ।
পরিবর্তিত ফ্যাশনের মতো টিউব মেহেদিতেও ভিন্নতা এসেছে। ব্ল্যাক মেহেদি গ্লিটার, ড্রেসের সঙ্গে কালার ম্যাচ করে অনেকেই মেহেদি পরছেন। টিনএজারদের অনেকে চোকার-এর ডিজাইনে গলায় মেহেদি পরে ভিন্নভাবে নিজেকে উপস্থাপন করছে।
আজকাল নেইল আর্ট বেশ জনপ্রিয়। তবে হাতে মেহেদি পরলে সাদা নেইলপলিশ, মেরুন নেইলপলিশ, ফ্রেঞ্চ ম্যানিকিউর বেশ ভালো মানায়। নেইল আর্ট পছন্দমতো করে নিলেও খেয়াল রাখবেন তা যেন মেহেদিটিকে ছাপিয়ে না যায়।
আজকাল আর সারা রাত হাতে মেহেদি রাখতে হয় না। দ্রুত শুকিয়ে যাওয়া গাঢ়রাঙা মেহেদি টিউব বাজারে পাওয়া যায়। এগুলো ব্যবহার করতে পারেন। মেহেদি শুকিয়ে গেলে ডিজাইনের ওপর সরিষার তেল কিংবা কাগুজি লেবুর রস ও চিনির মিশ্রণ দিতে পারেন। ওই মিশ্রণ ব্যবহার করলে তা শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। বেশিদিন রঙ ঠিক রাখতে হলে হাতে যথাসম্ভব কম সাবান ও পানি ব্যবহার করুন। অনেকেই জানান, টিউব মেহেদি ব্যবহারে তাদের হাতে র‌্যাশ বা অ্যালার্জি হয়েছে। এর কারণ হলো, বাজারের টিউব মেহেদিতে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহƒত হয়। অ্যালার্জি এড়াতে ল্যাকটোক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করার পর মেহেদি দিন।   

রমজানের দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনায় ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে যে আত্মসুদ্ধি হয়, ঈদের দিনটি আসে এরই উপহারস্বরূপ। বছরের সব আনন্দ উপচে পড়ার দিন এই ঈদ। নতুন পোশাক ভালো খাবার আর আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে পুনর্মিলন যেন পরিপূর্ণ করে এইদিনটিকে। তাই ঈদে সবারই চাই বাড়তি সৌন্দর্যে নিজেকে বিকশিত করা।
 

____________________
 লেখা :  ফারহাতুল জান্নাত
 মডেল :  বারিষ হক
 ছবি :  সহজ আর্কাইভ

সুইমিং রিক্রিয়েশন



কার্ডিও ভাস্কুলার ফিটনেস বজায় রাখার জন্য সাঁতার সবচেয়ে উন্নততর পন্থা। সাঁতার এমন একটি ব্যায়াম যা ল্যান্ড বেইজড ব্যায়াম থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। জলরাশির নিজস্ব একটা চাপ রয়েছে। ফলে পানিতে প্রথম নিজেকে ভাসিয়ে রাখতে ও সামনে এগিয়ে নিয়ে যওয়া শিখে নিতে হয়। কার্ডিওর পেশেন্টের জন্য সাঁতারের চেয়ে উৎকৃষ্ট ব্যায়াম আর দ্বিতীয়টা নেই। তবে ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন। একই সঙ্গে হৃৎপি- ও শরীরের সব পেশী সমানভাবে কাজ করে। সুইমিংপুলে সাঁতারের একটি বড় সুবিধা হলো পুলের নিরাপত্তা, শীতল ও মনোরম পরিবেশ। তা শরীর ও মনে অন্য রকম প্রশান্তি এবং ফুরফুরে মেজাজ এনে দেয়। ছয় ঋতুর নিজস্ব স্বাধীনতা থাকলেও আমরা বছরের প্রায় সাত মাসই গরম অনুভব করি। বিশেষত আমাদের ঢাকা শহরে গ্রীষ্ম তথা গরম মৌসুমে দাবদাহ চলে, তখনই এই স্বচ্ছ জ্বলাধার আমাদের শীতল পরশ এনে দেয়। তবে সাঁতারের ক্ষেত্রে আপনাকে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যদি আপনি মৃদু উত্তেজনা বোধ করেন তাহলে ধীরগতিতে সাঁতরাবেন। জলের বিরুদ্ধে না গিয়ে জলের সঙ্গে কাজ করুন। প্রতিযোগিতামূলক সাঁতারের অভ্যাস না থাকলে কখনোই অন্য সাঁতারুর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা ঠিক নয়।
যাদের শারীরিক গঠন, আপার বডি অথবা উইংস প্রশস্ত এবং লোয়ার বডি সরু, অনেকটা সার্ফ বোর্ড বা রূপকথার মার্মেইডের মতো তারা বাড়তি সুবিধা পায় সাঁতারে। এক্ষেত্রে সমাধান একটাই, আরামদায়ক গতিতে নিজের সঙ্গে মানিয়ে সাঁতার কাটা।


সারা দিন ফুরফুরে আমেজ ধরে রাখার জন্য অনেকেই সকালেই সুইমিংপুলে যান। প্রচ- গরমের কারণে কেউ বা আবার দুপুর, কেউ সারা দিনের কর্মব্যস্ততা সেরে নির্ভেজাল প্রশান্তি খোঁজার জন্য সন্ধ্যার পরও সুইমিংপুলে যান। সর্বাধিক ফ্যাট কমানোর জন্য সাঁতারের বিকল্প নেই। খালি পেটে সাঁতার করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার শরীরের জ¦ালানি অর্থাৎ ক্যালরির দিকে নজর রাখতে হবে।
যেহেতু আমাদের রাজধানী অর্থাৎ ঢাকা শহরে সাঁতারের উপযোগী কোনো জলাধার নেই সেহেতু আপনাকে সুইমিংপুলে যেতে হবে। সুইমিংপুলে সময় দেয়া একটা বড় রকমের বিনোদনও বটে।
পরিবারের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পুলে যেতে পারেন। আর শিশুদের কথা বলতে গেলে বলা যায়, তাদের কাছে পুল একটুকরো স্বর্গ। তবে সাঁতারের ইনিশিয়াল ট্রেনিং থাকতেই হবে। বড়দেরও শিশুদের পাশাপাশি অবস্থান করতে হবে। এখন শুধু পাঁচতারা হোটেলগুলোর মধ্যেই সুইমিংপুল সীমাবদ্ধ নেই। কেউ কেউ বাড়তি সৌন্দর্য সৃষ্টির জন্যই বাড়িতেই পুল তৈরি করছেন। আধুনিক আর্কিটেক্টরাও বাড়িতে সুইমিংপুল রাখার পরামর্শ দেন। এতে বাড়ির সৌন্দর্য ও আভিজাত্য বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।


বাণিজ্যিক সুইমিংপুলগুলোয় সময় কাটানো কিছুটা ব্যয়বহুল। এরপরও নির্ভেজাল উৎকৃষ্ট বিনোদনের কথা মাথায় রেখে সপ্তাহের অন্তত দু’দিন আপনি সুইমিংপুলের শরণাপন্ন হতে পারেন।
শহরের বেশির ভাগ ছেলেমেয়েই সাঁতার জানে না। আর অভিভাবকরা সময়-সুযোগের কথা বলে খোঁড়া যুক্তি দেখান। জেনে রাখা দরকার, পৃথিবীর সব থেকে উন্নত দেশগুলোর মধ্যে জার্মানিসহ কয়েকটা দেশে শিশুদের সাঁতার শেখানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু নদীমাতৃক বাংলাদেশে শহুরে ছেলে-মেয়েরা সাঁতার জানে না বললেই চলে। পুলের নিরেট স্বচ্ছ জলরাশি থেকে উঠেই ভাববেন না স্নান শেষ। এর সঙ্গে সঙ্গেই শাওয়ার নিয়ে ফেলবেন। আপনি সুইমিংপুলে যাচ্ছেন। আপনার সুইমিং কস্টিউম সঙ্গে নিয়েছেন তো?

 


______________________________


 লেখা : শাফিক মালিক
 মডেল : নাজমুল সাদ
 ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু
 কৃতজ্ঞতা :  শাখাওয়াত হোসেন কল্লোল

চুলের রঙে রঙিন

 




আসছে রোজার ঈদ। বছর ঘুরে আসে বহু প্রত্যাশিত এদিনটি। ঈদ মানেই আনন্দ। ঈদ মানেই উৎসব। আর এ উৎসব উপলক্ষে প্রত্যেকেরই নিজেকে নিয়ে থাকে নানান প্রস্তুতি। অন্যসব দিনের চেয়ে এদিনটি ব্যতিক্রম হওয়ায় সাজটিও হওয়া চাই আলাদা। ঈদ নিয়ে ফ্যাশনের সব শাখায় চলে অন্তহীন ব্যস্ততা। চাঁদরাত পর্যন্ত চলে অবিরাম প্রস্তুতি।


বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের চুলের ফ্যাশন নিয়ে আগ্রহ অপরিসীম। থাকে চুলের বিভিন্ন স্টাইল বা কাট এবং এর সঙ্গে চুলের বিভিন্ন রঙে রঙিন চমক। ইদানীং চুলের বাহারি রঙ নিয়ে চলছে বেশ মাতামাতি। সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত ফ্যাশনে স্থান করে নেয় নানান অনুষঙ্গ। কাল ও যুগের পরিক্রমায় কখনো বা নতুনত্বের পসরা নিয়ে সামনে আসে ফ্যাশনের বৈচিত্র্য, কখনো বা পুরনোকে নতুনের ছাঁচে ঢেলে তৈরি হয় অতীতের ফ্যাশনের সঙ্গে বর্তমান আধুনিকতার অপূর্ব মিশেল। ফ্যাশনের এই হাজারো উপকরণ এবং এর উপযোগিতা খুঁজে নেয় বর্তমানের ফ্যাশন দুরস্ত মন। সারা পৃথিবীতে চলছে চুলের রঙ নিয়ে রঙবেরঙের খেলা। এ খেলায় পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরাও। চুলের রঙ কেমন হবে তা প্রত্যেকের ব্যক্তিত্বের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত জাতি ও গোষ্ঠীর সঙ্গে চুলের রঙ সম্পর্কিত। আমাদের দেশের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষেরই চুলের রঙ কালো। তবে কালো চুলও বিভিন্ন রঙে রাঙিয়ে চেহারায় ফুটিয়ে তোলা যায় অন্য রকমের আবেদন।


সাধারণত দুই ধরনের মেলানিনের কারণে চুলের রঙে পার্থক্য হয়ে থাকে। তা হলো ইউমেলানিন ও ফোমেলানিন। কারো চুলে ইউমেলানিন বেশি থাকলে তার চুলের রঙ গাঢ় হবে এবং পরিমাণ কম হলে হবে হালকা। তবে চুলে রাসায়নিক প্রক্রিয়ার সাহায্যে এখন সহজেই রঙ পরিবর্তন করা যায়।  চুলের রঙ স্থায়ী বা ক্ষণস্থায়ী হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। এর ওপর নির্ভর করে খরচ হয়। ক্ষণস্থায়ী বলতে বোঝায়, এর স্থায়িত্ব থাকবে ৩ থেকে ৬ মাস। ছেলেমেয়েদের সবচেয়ে বেশি পছন্দ ব্লন্ড কালার বা স্বর্ণকেশী রঙ। খুব সহজেই মানিয়ে যায় এ রঙটি। তাই হয়তো এ রঙটি বর্তমানে জনপ্রিয়তার শীর্ষে।

এছাড়া আজকাল টিনএজার মেয়েরা প্রথা ভেঙে চুলের নিচের অংশটুকু নীল বেগুনি ইত্যাদি রঙেও রাঙিয়ে নিচ্ছে। বাজারে রয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রঙ, যেমন লরিয়েল, রেভলন, গার্নিয়ার, জেস্ট, ডাভ, গোদরেজ ইত্যাদি। এর সাহায্যে আপনার চুল বাড়িতে বসেই অনায়াসে রাঙিয়ে নেয়া যেতে পারে। তবে প্রথমবার হলে অবশ্যই কোনো ভালো পার্লার বা স্যালন-এ গিয়েই করানো উচিত।  রঙ করার আগে চুলে ব্লিচ করে নিলে রঙ কিছুদিন বেশি স্থায়ী হয়। তবে এতে চুলের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। আজকাল অবশ্য অনেকে মেহেদি দিয়েও চুল রঙ করতে আগ্রহী।
 

লক্ষণীয়:


   যে কোনো উৎসবের অন্তত ৫ দিন আগে চুলে রঙ করানো উচিত। এতে চুলে রঙটা ভালোমতো বসে এবং
   চেহারার সঙ্গে মানানসই হয়।
   রঙ করার পর অবশ্য চুলের বাড়তি যতœ নেয়া প্রয়োজন। আজকাল কালার প্রটেক্টেড শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার
   পাওয়া যায় যে কোনো শপিং মল আর প্রসাধনীর দোকানে।
   বাড়তি যত্ন আপনার চুলে এনে দেবে জেল্লা আর ঝলমলে ভাব।

 

 

_____________________________

 লেখা : সোনাম চৌধুরী
 মডেল : ফারিয়া আফরিন
 মেকওভার : ক্লিওপেট্রা বিউটি স্যালন
 ছবি :  শোভন আচার্য্য অম্বু

বাহারি ব্রেসলেট

 



ইংরেজি শব্দ ব্রেসলেট বাংলা ভাষায় এমনভাবে স্থান করে নিয়েছে যে, কেউ আর এর আভিধানিক অর্থ খুঁজতে যান না। আগে শুধু শহরে এর ব্যবহার দেখা যেতো। এখন শহর ও গ্রামÑ উভয়স্থানেই ছেলেরা নিজের ইউনিক লুকের জন্য ব্রেসলেট পরে। মজার বিষয় হচ্ছে, রিস্ট হিসেবে পরার ওই বস্তুটি পুরো গেটআপেই ফোকাস করতে সক্ষম। এক দশক আগে ব্রেসলেট শুধু ক্যাজুয়াল পোশাকের সঙ্গেই পরতে দেখা যেতো। অতীতের ওই ধ্যান-ধারণা পাল্টে ফরমাল ও
ক্যাজুয়াল- উভয়ক্ষেত্রেই ব্রেসলেট দারুণভাবে মানিয়ে যায়। অতীতে যেতে হলে একেবারে আদিম যুগের মানুষের কথা বলতে হয়। তখন তারা পশুর হাড়, চামড়া কব্জিতে ব্যবহার করতো। কোনো রিচুয়াল স্থান থেকে এখনো ওই ধারণা পুরোপুরি উঠে যায়নি। পশ্চিমা বিশ্বে কণ্ঠশিল্পীদের মধ্যে হরেক রকমের ব্রেসলেট পরতে দেখা যায়। লেদার ও মেটাল, জুয়েলারি স্টেইনলেস স্টিল, সুতা, রাবার, পুঁথি, প্লাস্টিক উপকরণসহ নানান সামগ্রী ব্রেসলেটে ব্যবহার করা হয়। ছেলেদের ফ্যাশনে নতুন উপাদান ও নকশার ব্রেসলেট এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। কিছু ব্রেসলেট সিলিকন অর্থাৎ নরম ধাতু দিয়ে তৈরি হয়। একেকজনের রুচি একেক রকম। তাই একেকজন একেক রকমের ব্রেসলেট পরতে পছন্দ করেন। অকেশনের ভিন্নতার কারণেও ব্রেসলেটের ভিন্নতা দেখা যায়। ব্রেসলেট ফ্যাশনের অন্যতম অংশ হলেও সব সময় গর্জিয়াস ব্রেসলেট পরাটা ঠিক না। পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করেই আপনার ব্রেসলেটটি পছন্দ করতে হবে। টিশার্ট, পোলো শার্ট, ক্যাজুয়াল শার্টের সঙ্গে লেদার অথবা রবারের ব্রেসলেট পরতে পারেন। আনুষ্ঠানিকতায় চেইন ও পিতলের

 তৈরি ব্রেসলেট পরতে পারেন। সেমিফরমাল পোশাকের সঙ্গে চামড়া বা কাঠ দিয়ে তৈরি ব্রেসলেট বেশ মানানসই। কুলবয় লুক পেতে কম-বেশি অনেকেই মেতে উঠছে ব্রেসলেট পরার জন্য। তাই কোন ধরনের ব্রেসলেট আপনি পরতে পারেন তা দেখে নিন-


ব্যাঙ্গেল ব্রেসলেট : ব্যাঙ্গেল স্টাইলের এই ব্রেসলেট বেশ জনপ্রিয়। পুঁথি ও নানান রঙের বালা এক সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাঙ্গেল তৈরি করা হয়। এটি যেমন সুন্দর তেমনি স্মার্ট।
বিডেড ব্রেসলেট : স্টোন, কাঠের টুকরা ও প্লাস্টিক দিয়ে ফুরফুরে মেজাজের সঙ্গে বেশ মানিয়ে যায় এই বিডেড।
কাফ ব্রেসলেট : একদিকে খোলা হয় এই ব্রেসলেটটি পরতে বেশ সুবিধা রয়েছে। এগুলো সাধারণত মেটালের হয়ে থাকে।
লেদার ব্রেসলেট : যারা মেটাল ব্রেসলেট পছন্দ করেন না তারা পরতে পারেন এই লেদার ব্রেসলেট। এটি স্মার্ট লুকের সাথে প্রকাশ করে আভিজাত্য ও ব্যক্তিত্ব।
লিংক ব্রেসলেট : একটার পর একটা স্টোন ও মেটালের কারুকার্য দিয়ে যুক্ত করে এই ব্রেসলেট তৈরি হয়। এই ব্রেসলেট আপনার রুচির পরিচয় দেবে তখনই যখন লিংক ব্রেসলেট নির্বাচনে ভুল করবেন না।
মাল্টিস্ট্রেন্ড ব্রেসলেট : অনেকটি চেইন এক সঙ্গে পেঁচিয়ে তৈরি করা হয় এ ব্রেসলেটটি। একটা সময় মনে করা হতো রঙবেরঙের ব্রেসলেট শুধু মেয়েদের হাতেই মানায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক ফ্যাশনে এসেছে পরিবর্তন। মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেরাও  ব্রেসলেটকে ফ্যাশন
 

 

________________________


লেখা : শাফিক মালিক
স্টাইলিং: শাফিক মালিক
মডেল : জুবায়ের, শাকিল
ছবি :  শোভন আচার্য্য অম্বু

 হেয়ারকাট

 

কতো শত গান, কবিতা রচিত হয়েছে নারীর চুল ঘিরে। নারীর সৌন্দর্য বর্ণনায় চুলের উপমা থাকবেই। তবে ছেলেদের চুলের সৌন্দর্য অনেকটাই অপ্রকাশিত থেকে গেছে। মজার বিষয় হচ্ছে, সময়ের এমন পরিবর্তন এসেছে যে, নারীর চেয়ে ছেলেরা চুলের স্টাইল নিয়ে বেশি সজাগ এবং বৈচিত্র্যও অনেক।


নারীরা চুলের যত্নে হাতে গোনা কয়েকটা স্টাইলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন। এক্ষেত্রে ছেলেরা চাইলেই তার চুলের স্টাইল চেঞ্জ করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লুক নিয়ে আসেন। অতীতের ছেলেদের উড়ন্ত চুল বিপ্লব ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে ধরা হতো। শুধু চুলই পারে কারো অবয়বের পুরোপুরি পরিবর্তন করে দিতে। হেয়ারস্টাইলের সঙ্গে যে কোনো ছেলের কুল লুক, বয় লুক, অ্যারিস্টোক্রেসি, এথলেক, ব্যক্তিত্ববান, রাফ অ্যান্ড টাফ ও জেন্টেল লুক প্রকাশিত হয়। বর্তমান ফ্যাশনে ছেলেরা নিত্যনতুন হেয়ারস্টাইল নিয়ে খুবই সজাগ। তাদের হেয়ার ফ্যাশন দু’ভাবে হতে পারে। তা হলো লম্বা ও ছোট চুলের স্টাইল।


লম্বা চুলের জন্য একটি জনপ্রিয় স্টাইল হচ্ছে মেন বান কার্ট। সহজ কথা হচ্ছে চুলে একটি ঝুঁটি বাঁধা। এটি হতে পারে সব চুল এক সঙ্গে পেছনে বাঁধা আবার শুধু হেড বটম চুলগুলো ছোট করে ঝুঁটি বাঁধা। পেছনের চুল খোলা রাখা যেতে পারে। এটি বিভিন্ন স্টাইলেও করা যায়। আপনার ফেইস অনুযায়ী নিজের কাছে যেটি মানানসই হবে সেটিই করতে পারেন।


কুল লুকের জন্য গ্লোসার কার্ল ফ্যাশনে স্থান করে নিয়েছে। এই স্টাইল চোখে পড়ার মতো ইউনিক লুক এনে দেয়। এক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা আছে। আপনার চুল কার্লি না হলে এই কাট থেকে মন সরিয়ে নিন।
আপনার মাঝারি চুলগুলো ব্যাকব্রাশ করে ফেলুন। করপোরেটের ক্ষেত্রে এটা এনে দেয় দারুণ লুক। এ স্টাইলটিকে বলা হয় ইজি সুইফট ব্যাক। তবে এটি আপনাকে ম্যাচিউরড লুক পেতে সাহায্য করে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে টিনএজারদের থেকেতুলনামূলকভাবে একটু বেশি বয়সের ছেলেদের এই কাট ভালো মানায়।

এবারের ঈদে তরুণদের কাছে সবচেয়ে পছন্দের কাট হচ্ছে শর্ট স্টিকিং। দু’দিক থেকে বেশি ছোট করে বটম চুল একটু বড় করে জাম্পিংয়ে রাখা। ফুটবল তারকাদের মধ্যে এ স্টাইল বেশি দেখা যায়।
শর্ট সাইড পার্ট হাল ফ্যাশনের আরেকটি স্মার্ট কাট। বামদিকে ছোট করে একটা লম্বা স্পষ্ট সিঁথি বের করে বাকি চুলগুলো আঁচড়ে নিতে হয়। হাল ফ্যাশন থেকে ছিটকে পড়েছে পাম্প স্টাইল এবং বিভিন্ন স্পাইক। চুল যখন আপনার পুরো গেটআপ পরিবর্তন করতে সক্ষম তখন একবার ভেবে নিন, এবার ঈদে আপনি কোন স্টাইল বেছে নেবেন। সেটি আগে থেকে প্ল্যান করে হেয়ার ড্রেসারের কাছে যান।

 

_______________________________


লেখা : শাফিক মালিক
স্টাইলিং : শাফিক মালিক
মডেল : তুষার, আপেল, তনয়, রাসেল
ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু

সেকেন্ড ইনিংস

 

সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলো পরিবার। পরিবার আমাদের ব্যক্তি চরিত্র বিনির্মাণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে আসছে। পরিবার ছাড়া সমাজ, এমনকি রাষ্ট্রও অলীক। তাই মানব সভ্যতার প্রাথমিক ও চূড়ান্ত স্থানটি আজও পরিবারের। দেশে দেশে পরিবার বিভিন্নতর হলেও এর মৌলিক ভিত্তি একই। যৌথ পরিবার ভেঙে ভেঙে পরিবারের বিভিন্ন আদল আমরা দেখতে পাই। এতেও পরিবারের প্রতি মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশা কমেনি। আর এই পরিবার টিকে থাকে আস্থা, ভালোবাসা, বিশ্বাস ও নির্ভরতায়। পরিবার তৈরি এবং টিকিয়ে রাখতে বিয়ে অনিবার্য আমাদের সমাজ ব্যবস্থায়। এই বিয়ের ভবিষ্যৎ পরিবারের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এ জন্য বিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিয়ের নানান প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গে মানসিক কিছু প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে। দেখলাম, ভালো লাগলো, ধুম করে বিয়ে করো- এসবই ভুল চিন্তা ও কাজ। এটি অস্বাস্থ্যকর দাম্পত্য জীবনের সূচনা করে। পশ্চিমা এক সাইকোলজিস্ট ও ম্যারিজ কাউন্সিলরের একটি লেখায় তিনি জোর দিয়েছেন বিয়ের আগে থেকে বিয়ে-পরবর্তী দায়িত্বগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার ব্যাপারে। পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত পারস্পরিক দায়িত্ব গ্রহণ ও পালন এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।


বিয়ে হচ্ছে দুটি মন ও মানুষের এমন এক রসায়ন যা মিলে গেলে খুবই ভালো, না মিললেই তা হয়ে ওঠে হৃদয়বিদারক। আবার বিয়েটিকে আধা মিল ও আধা গরমিলের টান টান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের সঙ্গে তুলনা করলে অত্যুক্তি হবে না। খেলায় যেমন হার-জিত থাকে তেমনি সামাজিক এ সম্পর্কটিতেও হার-জিত আছে। বিয়েতে সফল হতে না পারলে বা সম্পর্ক রক্ষায় হেরে গেলে সারা জীবন মাথা হেট করে নিজেকে অসফল ভাবার কিছু নেই। জীবন তো বহতা নদী। আর সামাজিক জীব হওয়ার কারণে মানুষের পক্ষে একা থাকা সম্ভব নয়। তাই প্রথম ইনিংসে হেরে যাওয়া খেলোয়াড় অনায়াসে খুঁজে নিতে পারেন দ্বিতীয় আরেক পার্টনার।বিয়ের পর দু’জন নতুন মানুষ এক সঙ্গে থাকতে শুরু করলে সহনশীলতা খুবই দরকার পড়ে। মূলত নিজের ‘প্রাপ্তি’ বা ‘আকাক্সক্ষা’ নিয়ে বেশি বেশি ভাবলে প্রবঞ্চিত অনুভব করার আশঙ্কা থেকেই যায়। যে কোনো শূন্যতাই মানুষকে তা পূরণে তাগিদ দেয়। সেটি মানসিক হলে মানসিক এবং জৈবিক হলে জৈবিক।


অনেকে বিয়ের গাঁটছড়া বেঁধে বেশ কিছুদিন এক সঙ্গে পার করে দেয়ার পর বুঝতে পারেন তারা ভুল মানুষকে বেছে নিয়েছিলেন। অনেক দ্বিধা ও ঝক্কি-ঝামেলা পেরিয়ে আলাদা হওয়ার পর আবার নতুন করে জীবন নিয়ে ভাবতে শুরু করেন অর্থাৎ দ্বিতীয়বার নতুন কারো খোঁজ করেন।
সুন্দর একটি আদর্শ কল্পনার জগতে পুরুষ ও নারীরা বিয়ে করবেন, এক সঙ্গে দীর্ঘ ও সুখের জীবন কাটাবেন এবং প্রায় একই সময়ে এই দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবেন। এক্ষেত্রে কখনোই দ্বিতীয় বিয়ের প্রয়োজন হবে না। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এমনটি হয় না।
আমরা এমন এক জগতে বাস করি যা নিখুঁত কিংবা আদর্শ নয়, বরং নিখুঁত থেকে অনেক দূরে। মানুষ কখনো কখনো অল্প বয়সে মারা যায় তাদের দুঃখী সঙ্গীদের একাকী পেছনে ফেলে। বেশির ভাগ বিয়েই কেবল
তালাকের মাধ্যমেই শেষ হয় না।

 


মজার বিষয় হচ্ছে, দ্বিতীয় বিয়ের মধ্যে তালাকের হার প্রথম বিয়ের তুলনায় বেশি। কেউ হয়তো ভাবতেই পারেন, যার বিয়ে বিচ্ছেদ হয়েছে তার একটা শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা হয়েছে। তাই হয়তো অতীতের ভুলগুলোর আর পুনরাবৃত্তি করবেন না। এক্ষেত্রে প্রায়ই তা হয় না। যারা নির্দিষ্ট চাহিদা পূরণের জন্য বিয়ে করেন কিন্তু এর পরিবর্তে নিজেরা কিছুই করতে প্রস্তুত নন তারা একই অভিপ্রায় নিয়ে সাধারণত দ্বিতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিয়ে কঠিন ঝুঁঁকিপূর্ণ রাস্তায় ঘোড়া চালানোর মতোই বিপজ্জনক ও নতুন দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।একটা সময় ছিল যখন বাঙালি সংস্কৃতির মূল সৌন্দর্য ছিল মূল্যবোধ। ওই সময় ছেলেমেয়েরা মনে করতো, পরিবারের সিদ্ধান্তই তাদের জন্য চূড়ান্ত। নিজের চাহিদা বা ভালো লাগা, মন্দ লাগার চেয়েও পারিবারিক সম্মানই তখন বড় করে দেখা হতো।


সময় পাল্টেছে এর আপন গতিতে। এখন যে কোনো কিছুর চেয়ে মানুষ নিজের ভালো লাগা, মন্দ লাগাটাকে বেশি প্রাধান্য দেয় বা দিতে চায়। আগে যেমন দেখা যেতো সন্তানরা পিতার হেঁটে যাওয়া রাস্তায় হাঁটতো, বেছে নিতো পিতার পেশা। এখন আর তা দেখা যায় না মোটেও। বিয়ের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। এখন ছেলেমেয়েরা পরিবারের পছন্দের তুলনায় নিজেদের পছন্দেই বিয়ে করে। সমস্যা সেটি নয়, সমস্যা হলো- বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা বিয়ের পর মনে করে, ভুল সঙ্গীকে বেছে নিয়েছে। আর পরবর্তী সমস্যার সূত্রপাত এখন থেকেই। অতঃপর শুরু হয় নতুন সঙ্গী খোঁজার কার্যক্রম। সামাজিকভাবে প্রগতিশীল হলেও এখনো স্বাচ্ছন্দ্যে দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নেয়ার মতো উদারতা আমাদের সংস্কৃতি দেখাতে পারেনি। যেখানে আগে মনে করা হতো বেশি বয়সে ভীমরতির কারণেই মানুষ দ্বিতীয় বিয়েতে ঝুঁকে পড়ে সেখানে বর্তমানে অল্পবয়সীদের দ্বিতীয় বিয়েও হচ্ছে উল্লেখযোগ্য হারে। মিড লাইফ ক্রাইসিসের কারণে সৃষ্ট জটিলতাই মানুষকে পরিণত বয়সে অন্য রকম ভাবতে বা সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করে বলে মনে করা হয়। জীবনের এই দ্বিতীয় ইনিংসে যাওয়ার প্রাক্কালে অনেকেরই চোখে ঝলমলে রঙিন চশমা থাকে। তারা সামনে যা কিছু দেখেন তা সবই রঙিন। অনেকে আবার পুরনো সব ভুল শুধরে নতুন করে জীবন শুরুর স্বপ্ন দেখেন। অনেক বিখ্যাত মানুষই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। অনেকে এর চেয়েও বেশি। এতে তাদের ভেতরকার শূন্যতা কতোটা কমেছে তা বোঝার চেষ্টা হয়তো কেউ করেননি কখনো।

তামাম দুনিয়ায় ভূরি ভূরি নমুনা আছে যেখানে কম বয়সী মেয়েকেই বেশি বয়সের পুরুষ পছন্দ করে বিয়ে করেছেন। উডি অ্যালেন ৫৬ বছর বয়সে ১৯ বছর বয়সের পারভিনের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন। ৩১ বছর বয়সে পা দিয়ে ক্যাথরিন জিটা জোনস ৫৬ বছর বয়সের মাইকেল ডগলাসের প্রেমে পড়েন। রুশদির সঙ্গে বিয়ের পর পদ্মালক্ষ্মীকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয় ২৩ বছরের বড় একজনকে তিনি কেন বিয়ে করছেন? তখন পদ্মালক্ষ্মী সহাস্যে জানান, রুশদির মতো অমন বুদ্ধিদীপ্ত ফ্লার্ট করতে আর কোনো পুরুষকে তিনি দেখেননি। বিয়ে না টিকলেও রুশদির সঙ্গে কাটানো প্রেমের মুহূর্তগুলোই পদ্মালক্ষ্মীর দাম্পত্যের শেষ কথা ছিল।
৪০ বছর বয়সে জীবন শুরু করা যায় অনায়াসে- এমন কথা ইদানীং মনোবিজ্ঞানীরা বেশ জোর দিয়ে বলে থাকেন। তাই দ্বিতীয় বিয়ের জন্য চল্লিশ-ঊর্ধ্ব বয়স কোনো বাধা নয় বলেই মনে করেন তারা। পরিণত বয়সে বিয়ের সম্পর্ক যৌনতাড়নার পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্টি হয় না বলেই তাদের ধারণা।

নামকরা একটি প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মী কামাল আহমেদ (৫৭) সম্প্রতি বিয়ে করেছেন ৩৫ বছর বয়সের নাসরিন সুলতানাকে। কামাল জানান,
পরিবারসহ আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব- কারোরই সমর্থন ছিল না ওই বিয়েতে। খুব কাছের বন্ধুরাও ভীমরতির অভিযোগ তুলে দূরে সরে গিয়েছিল। জগিংয়ের সময় নববিবাহিত স্ত্রী নাসরিনের মুখটি মনে করতেই যেন সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায় এবং জগিংয়ের স্পিডটিও যায় বেড়ে- হাসিমুখে এ কথা জানান তিনি।

রাফিয়া চৌধুরীর বয়স এখন ৪০ বছর । একা থাকার পরিকল্পনা করে হঠাৎই সরকারি রিটায়ার কর্মকর্তা মোস্তফা মাহমুদের প্রেমে পড়ে যান তিনি। যখন তাদের বিয়ে হয় তখন রাফিয়ার বয়স ৩৭ ও মোস্তফা মাহমুদের ৬৩ বছর। রাফিয়ার মা-বাবাসহ পরিবারের সবাই নিষেধ করেছিলেন। বন্ধুরাও বুঝিয়েছিলেন, ওই বিয়েতে তার খুব শিগগিরই বিধবা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু রাফিয়া এসব কথা উড়িয়ে দিয়েছেন এই বলে, মৃত্যুর কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। তাছাড়া তিনি সকাল-বিকাল আড্ডায় মাহমুদের সঙ্গে যে উষ্ণতা অনুভব করতেন ওই টান উপেক্ষা করা তার জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল। আবেগী কণ্ঠে তিনি এটিও বলেন, মাহমুদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো পোশাকি যৌনতার চেয়ে ঢের ভালো।

অল্প পরিচয়ে আজকাল হুটহাট লং ড্রাইভে বেরিয়ে পড়েন অনেকেই কিংবা স্বল্প আলোয় কাটিয়ে দেন ওয়াইন চুমুকের সন্ধ্যা। এছাড়া যদি থাকে চনমনে সুন্দরী কিংবা আকর্ষণীয় সুপুরুষের সঙ্গ তাহলে আর কী চাই!

ফেরদৌসী সাবাহ পরিণত বয়সের বিয়ে নিয়ে অতি উৎসাহী। গল্পে গল্পে তিনি বললেন, নারীদের জন্য বিয়ের নির্দিষ্ট বয়স আছে। কারণ তাদের সঙ্গে মাতৃত্বের বিষয়টি জড়িত। তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে এসব ঝামেলা নেই। তাই তারা ৬০ বছর বয়স পার করেও অনায়াসে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। দ্বিতীয় বিয়েতে প্রেম ও যৌনতা দৈনন্দিন জীবনে বৈচিত্র্য নিয়ে আসে এবং আটপৌরে জীবনে যোগ করে অন্য রকম মাত্রা। এখন মানুষের আয়ুর সঙ্গে বাড়ছে জীবন তৃষ্ণাও।
ফেরদৌসী সাবাহ এমন এক সময়ের অপেক্ষা করছেন যখন দ্বিতীয় বিয়ে, অসম বিয়ে, যে কোনো বয়সে বিয়ে- এসব নিয়ে কেউ আর কোনো প্রশ্ন তুলবেন না। কেউ বাঁকা চোখে তাকাবেন না কিংবা দ্বিতীয় বিয়ের পর সবার সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার জন্য চারপাশের মানুষকে অনবরত যুদ্ধ করতে হবে না। সেটিই হবে জীবনের সহজ ধারা...। দিন গুনছেন ফেদৌসী সাবাহ।

 

_______________________________

লেখা : এনায়েত কবির
মডেল : আমানুল্লাহ হারুন ও নাহিদ
ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু
কৃতজ্ঞতা : রেফায়েত উল্লাহ

স্ট্রেস...

 

স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট বা মানসিক চাপ কীভাবে কমাবেন, কী করবেন...
‘ক্লান্তি আমায় ক্ষমা করো প্রভু, পথে যদি পিছিয়ে পড়ি কভু!- এ গানের কথাগুলোয় হতাশা, ভীতি, এংজাইটি ও স্ট্রেসের ছায়া কি পাওয়া যায়? নাগরিক ব্যস্ততার এই দৈনন্দিন জীবনে ওই গানের লাইনগুলো প্রায়ই কি আমাদের মনে পড়ে না কারো কারো? হ্যাঁ হতাশা, আক্ষেপ ও ক্লান্ত-শ্রান্ত হৃদয়ের থেকে বেরিয়ে আসা দীর্ঘশ্বাসটি আসলে আমাদের মধ্যে মানসিক চাপ বা স্ট্রেসেরই সৃষ্টি করে।
স্ট্রেস শব্দটি যেন আমাদের দৈনন্দিন কর্মকা-ের সঙ্গে আজ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রতিদিনের প্রতিযোগিতামূলক জীবন ভূমিকায় আমরা প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছি, হয়ে পড়ছি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, প্যানিকড। তবে দুশ্চিন্তা, এংজাইটি- এসব স্ট্রেস নয়। স্ট্রেস হচ্ছে, আমাদের পারিপার্শ্বিক যে কোনো পরিবর্তন যা নিজের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। এটিই হলো ‘স্ট্রেস’। আর ওই স্ট্রেস মোকাবেলা করেই যিনি যতো বেশি চলতে জানেন তিনিই হন ততো সফল। তবে কে কীভাবে স্ট্রেস মোকাবেলা করবেন তা অনেকটাই নির্ভর করে তার বংশগত জিনের ওপর। এর সঙ্গে রয়েছে মানুষের স্বীয় ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী লড়াই করে চলার স্বভাবটিও।
ল্যাটিন শব্দ ‘স্ট্রিং’ মানে ‘টু ড্র টুগেদার’। এখান থেকেই ‘স্ট্রেস’ শব্দটি এসেছে। আরেকটি ল্যাটিন শব্দ ‘টেনসিও’ থেকে টেনশনের উৎপত্তি। শব্দটি পাশ্চাত্যের হলেও এই সমস্যায় ভুগছেন বিশ্বের প্রায় সব দেশের মানুষ। সাধারণত মানুষের মনের দুটি অবস্থা আছে। এক. স্বাভাবিক বা নরমাল এবং দুই, অস্বাভাবিক বা অ্যাবনরমাল। স্ট্রেস বা মানসিক চাপ আমাদের নিয়ে যায় ওই দু’য়ের মাঝামাঝি। আসলে শারীরিক, মানসিক কিংবা ইমোশনাল- যে কোনো বিষয় নিয়ে বাড়তি চিন্তাটিই আমাদের মনে ‘স্ট্রেস’-এর সৃষ্টি করে।

স্ট্রেসের কিছু ক্ষতিকর দিক আছে। তা হলো-

স্ট্রেসের কারণে দ্রুত রক্তচাপ বেড়ে যায়, হার্টবিট
দ্রুততর হয়।
ওজন বেড়ে যায়। কারণ তখন খাওয়াও বাড়ে।
হরমোন ডিসব্যালান্স হয়ে যায়।
মানসিক চাপে ত্বক কালো, শুষ্ক হয় ও ব্রণ জন্ম নেয়।
সোরাইসিস, রোসিয়া, অ্যাগজিমা, অ্যালার্জি বেড়ে যায়।
ত্বক প্রাণহীন ও স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে।

স্ট্রেসের কারণ
ঘড়ি কাঁটার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার তাড়া, অফিসে কাজের চাপ, সংসার জীবনে ক্রমাগত কাজের ভারে হাঁপিয়ে ওঠা কিংবা সামাজিক দায়বদ্ধতার মতো যে কোনো কিছুই হতে পারে কারো জন্য মেন্টাল স্ট্রেস বা মানসিক চাপের কারণ। পরীক্ষাভীতি, বেকার জীবন- এসবও স্ট্রেসের খুব সাধারণ কারণ হতে পারে। তবে প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে চলার ক্ষমতা ও টাইম ম্যানেজমেন্টে যিনি যতো বেশি দক্ষ, তিনি ততো বেশি স্ট্রেস ম্যানেজ করে চলতে পারেন।
যাহোক, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের কিছু অতি সাধারণ অভ্যাস এই মানসিক চাপ বা স্ট্রেস থেকে অনায়াসেই আমাদের মুক্তি দিতে পারে। এটি নিয়ন্ত্রণে যা করতে হবে তা হলো-
সকালে নির্দিষ্ট সময়ের ১৫ মিনিট আগেই ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করতে হবে। এক্ষেত্রে অলসতা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।
মর্নিং ওয়াক করতে হবে। তা পার্ক বা উদ্যানে না হলেও নিজের বাগান, বারান্দা বা ছাদে হাঁটা যেতে পারে। সকালের বিশুদ্ধ বাতাসে হাঁটাহাঁটির অভ্যাস সারা দিনের জন্য বাড়তি মানসিক শক্তি জোগায়।
সকালের নাশতা সময় নিয়ে খেতে হবে। তাড়াহুড়ায় অনেকেই নাশতা না করে বের হয়ে যান বা অফিসেই খেয়ে নেন কিছু একটা। এটি অনেক বড় ভুল চর্চা। বরং সকালের সময়টুকু এমনভাবেই ম্যানেজ করতে হবে যাতে বেশখানিকটা সময় নিয়ে ব্রেকফাস্ট করা যায়। এতে সারা দিনের কাজে এনার্জি লেভেল দিনের শুরুতেই অর্জন করা যায়।
কর্মজীবী বা গৃহে যারা কাজ করেন তাদের জন্যই সকালে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় নিয়ে কী কী কাজ করতে হবে এর তালিকা তৈরি করে ফেলা একটি ভালো উপায়।
কাজের মধ্যে বিরতি দিতে হবে। টানা কাজ মেন্টাল স্ট্রেস বাড়ায়। প্রতি এক ঘণ্টায় কাজের পর অন্তত ১০ মিনিট সিট থেকে উঠে হাঁটা উচিত।
অনুরোধে ঢেঁকি গেলার অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। অকারণে অন্যকে খুশি করা কিংবা অযাচিত ভয়ে সব কাজ মাথা পেতে নেবেন না।
স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণের একটি ভালো উপায় হলো যোগ ব্যায়াম। যেমন- দুপুরে লাঞ্চের পর যে সময় একটু ঘুম ঘুম ভাব চলে আসে, ওই সময় গভীর একটা শ্বাস নিয়ে তিন সেকেন্ড ধরে রাখুন। এভাবে পর পর পাঁচবার শ্বাস নেয়া আর ছেড়ে দেয়ার ব্যায়াম করলে শরীর বেশ চাঙ্গা হয়ে ওঠে।


অনেকে আছেন, অফিস থেকে ফিরেই সংসারের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এটি কখনোই করা যাবে না। বরং পারলে আরামদায়ক গোসল আর চা পর্ব সেরেই বাড়ির কাজে মাথা ঘামানো যেতে পারে।
নিজের জন্য আলাদা একটু সময় বের করা আমাদের মানসিক শান্তির জন্য অবশ্যই প্রয়োজন। এটি হতে পারে টিভি দেখা, বই বা পত্রিকা পড়া অথবা অন্য কোনো কিছু।
অনেকেই বলেন, রাতে ঘুম হয় না। নানান চিন্তা আসে। অনেকের কাছেই ওই রাত হলো আগামীকাল নিয়ে ভেবে ভেবে ঘুম হারামের কারণ। এ দলটিই হচ্ছে ভয়ঙ্কর মানসিক চাপের রোগী। কাজেই মানসিক চাপ তথা স্ট্রেস থেকে বাঁচতে হলে অহেতুক ভাবনা-চিন্তা মাথা থেকে বের করে ফেলতে হবে। মৃদু শান্ত সঙ্গীত কিংবা মেডিটেশনও ভালো ঘুম আনতে সহায়ক হতে পারে।
মানসিক চাপ কমাবার জন্য একটি অনন্য মাধ্যম হলো হাসি। প্রাত্যহিক জীবনে হাসির উপাদান রাখতে হবে। হাসতে পারেন এমন বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দেয়া উচিত। অযথা নেতিবাচক কথাবার্তা বলা বা দূরভিসন্ধিমূলক আচরণের সঙ্গ পরিত্যগ করাই ভালো। হাসি আমাদের জীবনীশক্তি। হাসির মুভি, কমিকস- এসব উপাদানও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো অভ্যাসটিও মানসিক চাপ কমায়। শিশুদের সঙ্গে খেলা, হাসা, ছেলেমানুষি কিছুক্ষণের জন্য হলেও আমাদের স্ট্রেসমুক্ত করে তোলে।
প্রতিটি পরিস্থিতির ভালো ও খারাপ- দুটি দিকই আছে বা থাকতে পারে। পজিটিভ দিকটি দেখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আমাদের অবচেতন মনের সার্বক্ষণিক চিন্তাই আমাদের চেতন মনকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং ওইদিকেই জীবন ধাবিত হয়। তাই পজিটিভ দিক দেখার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে।
‘না’ বলতে শিখুন। মাঝে মধ্যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে না বলার অভ্যাসটাও করুন। অবশ্য বিনয়ের সঙ্গে এবং কেন না বলতে বাধ্য হচ্ছেন ওই কারণটি সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করুন। ফলে স্ট্রেস তৈরি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে গোড়াতেই দূর করা যাবে।

স্ট্রেসে করণীয়
স্ট্রেস ও টেনশন হলে মাথায় খুশকি হয়। চুল পড়ে যায়। এ জন্য রোজ ড্যানড্রাফযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত। চুল পড়া কমে যাবে।
স্ট্রেস হলে হরমোন ডিসব্যালান্স হয়। ফলে মুখে ব্রণ হয়। রোজ ভালো করে হারবাল ফেসিয়াল ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা উচিত। লবঙ্গযুক্ত ক্রিম লাগালে ব্রণ কম হবে।
টেনশন বা স্ট্রেসের কারলে মুখে পিগমেন্টেশন হয়। এতে কালো হয়ে যায় মুখ। রোজ দুধ দিয়ে মুখ ধুলে মুখ পরিষ্কার থাকবে।
স্ট্রেস বা টেনশন হলে সোরাসিস বা রোসিয়া হলে ময়শ্চারাইজার লাগাতে হবে। এ জন্য চিকিৎসককেও দেখানো উচিত।
পরিশেষে বলা যায়, দৃঢ় মানসিকতা গড়ে তুলতে হলে এবং আনন্দময় নির্মল জীবন যাপনের হাতিয়ারই হলো কিছু সুঅভ্যাস ও আত্মসচেতনতা। একটু সচেতনতার সঙ্গে প্রাত্যহিক জীবনের কর্মকা- পরিচালনা করলেই জীবন হয়ে উঠবে অনাবিল সুন্দর। সবার স্ট্রেস বা মানসিক চাপবিহীন সুন্দর জীবন কামনা করছি।

 

__________________

লেখা : শায়মা হক
মডেল : মোউশান
ছবি : স্বাক্ষর

গ্রীষ্মে সাজ ও ত্বকের যত্ন

 


‘উৎসব মানেই রঙ বাহারি পোশাক। আর উৎসবটি যদি হয় র্বষবরণ তাহলে তো কথাই নেই। লাল, সাদা, হলুদ, বেগুনি, সবুজ কিংবা নীল- কোনো রঙেই নেই মানা। কারণ সময়বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে ফ্যাশন ট্রেন্ডও। পহেলা বৈশাখে এখন আর কেউ শুধু লাল-সাদা পোশাকই পরেন না, লাল-সাদার সঙ্গে অন্য রঙগুলোও জড়াজড়ি করে জায়গা করে নিচ্ছে ফ্যাশন ডিজাইনারের ক্যানভাসে। আর এতো কালারফুল পোশাকের সঙ্গে সাজটি সাদামাটা হলে তো আর হবে না! এদিকে গ্রীষ্মের খরতাপও সঙ্গেই থাকবে। তাই মেকআপ করতে হবে এসব কিছু মাথায় রেখেই’- বললেন হারমনি স্পা ও ক্লিওপেট্রা বিউটি স্যালনের স্বত্বাধিকারী রাহিমা সুলতানা রীতা।

তিনি বলেন, এখন তো গরম, ঘাম, ধুলাবালি। তাই দিনের মেকআপ একটু হালকা হওয়াই ভালো। প্রথমে মেকআপ কিটসগুলো একটু গুছিয়ে নিন। এরপর মুখে কিছুক্ষণ বরফ ঘষে নিন। এবার লাগিয়ে নিন সানস্ক্রিন। কারণ রোদে ঘোরাঘুরি করতে হবে। আর গরমে লিকুইড, না হয় ম্যাট ফাউন্ডেশন লাগান। এর ওপর লাগিয়ে নিন কম্প্যাক্ট পাউডার। স্কিন টোনের কাছাকাছি হওয়াই ভালো ব্লাশন। পিংক কিংবা ব্রাউন হতে পারে। চোখের সাজে এবার নতুনত্ব এসেছে। দিনের সাজে স্মোকি লুক এখন অচল। গাঢ় কাজলও এখন চলছে না। হালকা কাজলের রেখা টেনে দু’তিন রঙের শ্যাডো পেন্সিল দিয়ে সাজিয়ে নিতে পারেন চোখ। তবে চোখের পাপড়িতে মাশকারা লাগাতে ভুলবেন না। সেটি হতে হবে অবশ্যই ওয়াটার প্রুফ। না হলে গরমে ঘামে গলে যেতে পারে। আর লিপস্টিকে এখন ম্যাটের ট্রেন্ড চলছে। গরমে এটি দীর্ঘস্থায়ী এবং গাঢ় উজ্জ্বল রঙগুলো উৎসবের সঙ্গেও বেশ মানানসই। লাল, গোলাপি কিংবা কমলা লাগাতে পারেন অনায়াসে। টিপের জন্য তো কোনো চিন্তা নেই। এই উৎসবে সবচেয়ে বেশি যায় বড় একটি লাল টিপ। দুই রঙের কম্বিনেশন করতে চাইলে প্রথমে একটি বড় টিপ পরুন। এরপর ওই টিপের ওপর বসিয়ে দিন অন্য রঙের এক সাইজ ছোট টিপ।
মেকআপ তো হলো। কিন্তু চুল বাঁধবেন কীভাবে? আর গহনাই বা কী পরবেন? পহেলা বৈশাখের সাজে ট্রাডিশনাল খোঁপাই যেন বেশি মানিয়ে যায়। তবে এখন আবার বেণীর চলটিও ফিরে এসেছে। ট্রাডিশনাল খোঁপা হলেও এর ধরনে পরির্বতন এসেছে। সবচেয়ে সহজ বুদ্ধি হচ্ছে পাঞ্চ ক্লিপ দিয়ে উঁচু করে চুলগুলো আটকে নেয়া। অর্ধেক ছাড়া আর অর্ধেক আটকানো থাকলে দেখতে যেমন ভালো লাগবে তেমনি গরমে আরামও পাওয়া যাবে। বাজারে এখন সুুন্দর সুন্দর পাঞ্চ ক্লিপ পাওয়া যায়। যাদের ছোট চুল তাদের জন্যও সুন্দর পাঞ্চ ক্লিপ পাওয়া যায়। গরমে ছোট চুলও না ছেড়ে ক্লিপ দিয়ে উঁচু করে আটকে নিলেই ভালো হয়। তবে অবশ্যই চুলে গুঁজে নেবেন একটি তাজা ফুল। বেণী হলে একগুচ্ছ ফুল অথবা মালা জড়াতে পারেন। কিন্তু খোঁপা অথবা ঝুঁটি হলে একটি ফুল হলেই সুন্দর দেখায়। আর অলঙ্কার ছাড়া নারীর সাজে যেন র্পূণতা আসে না। তাই বলে এই গরমে একগাঁদা উল্টা-পাল্টা অলঙ্কার পরলেই তো আর হলো না! গহনাও পরতে হবে উৎসবের মেজাজ ও গরম আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখেই।
রাহিমা সুলতানা বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির উৎসব। এ উৎসবে আমাদের ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলা উচিত। এই গরমে ইমিটেশন কিংবা কোনো ধরনের মেটালই এখন পরা উচিত নয়। বরং মাটির পুঁতি, কাঠ, সুতার তৈরি অলঙ্কার এই উৎসব ও আবহাওয়ার সঙ্গে বেশি মানানসই।
সাজ পোশাক যাই করুন না কেন, প্রচ- এই গরমে সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। খুব ভালো হয় মৌসুমি তাজা ফলের শরবত খেতে পারলে। এতে পানি যেমন পাওয়া যাবে তেমনি পাবেন ফলের পুষ্টিও। এটি আপনার ক্লান্তি দূর করবে। এছাড়া উৎসবে আপনি থাকবেন প্রাণবন্ত।

ত্বকের যত্ন
ত্বক সব সময় ঠা-া ও পরিষ্কার রাখতে প্রতিদিন ঠা-া পানি দিয়ে গোসল করতে হবে। সম্ভব হলে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে থাকতে হবে। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে পানির কোনো বিকল্প নেই। দিনে তিন-চার লিটার পানি আধা গ্লাস করে একটু পর পর পান করতে হবে। এছাড়া যে কোনো ফলের রস পান করাও উপকারী।

রোদে যাওয়ার আগে
ঘর থেকে বের হওয়ার আগে শুধু সানস্ক্রিন ব্যবহার করলেই হবে না, গোসল করে নেয়া ভালো। পানিতে কয়েক ফোঁটা বেনজয়েন অ্যাসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে গোসল করলে ঘামে দুর্গন্ধ ও রোদে ত্বক কালচে হবে না। ওষুধের দোকান বা সুপারশপে ওই অয়েল পাবেন। চার ঘণ্টা পর পর ল্যাভেন্ডার অয়েল সমৃদ্ধ ওয়েট টিস্যু দিয়ে ত্বক মুছে দিতে হবে।

রোদে পোড়া ভাব দূর করতে করণীয়
যে কোনো ত্বকের জন্য অ্যালোভেরা পেস্ট উপকারী। রাতে টক দই, ডিমের সাদা অংশ মিশ্রণ প্যাক হিসেবে ত্বকে লাগানো যেতে পারে। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। এছাড়া সুজি হালকা ভেজে এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করা যায়। এটি স্ক্রাবের কাজও করবে। স্ট্রবেরি, টক দই ও ময়দার মিশ্রণ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ভালো। আর শুষ্ক ত্বকের জন্য ব্যবহার করা যাবে দুধের সর, যে কোনো বাদাম, মধু ও সামান্য চিনির মিশ্রণ।
যাদের ত্বক পাতলা তাদের নিতে হবে বাড়তি যত্ন। এ ধরনের ত্বকের চামড়া ভেদ করে শিরার রেখা চোখে পড়ে। অনেকের পাতলা ত্বক রোদে গেলে অল্পতেই লাল হয়ে যায়। ফলে ত্বকে জ্বালাপোড়া হয়। যাদের ত্বক পাতলা তাদের বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত রোদ এড়িয়ে চলা উচিত। আর রোদে বের হলে অবশ্যই ত্বক বুঝে সানব্লক ব্যবহার করতে হবে এবং সঙ্গে রাখতে হবে ছাতা। বাইরে থাকলে দুই ঘণ্টা পর পর নতুন করে ত্বকে সানব্লক লাগতে হবে। কিছু ফেস পাউডারও সানব্লকের কাজ করে। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা এমন পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। রোদচশমা ও হ্যাট জাতীয় বড় টুপি ব্যবহার করতে হবে যেন মুখের চোয়াল ও এর আশপাশের স্থানে রোদ না লাগে। এরপরও যদি ত্বক লাল হয়ে জ্বালা করে তাহলে বরফ ঘষতে হবে অথবা ঠা-া পানির ঝাপটা দিতে হবে।

 

_____________________________

মডেল : নদী
মেকওভার : ক্লিউপেট্রা বিউটি স্যালন
ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু

 তিন কুড়িতে দেড় কুড়ি

 

 

‘আমরা নূতন যৌবনেরই দূত।

                আমরা চঞ্চল, আমরা অদ্ভুত।

                                 

 

রবি ঠাকুরের এ লেখায় মনে হতেই পারে, গতি যেমন জীবনের অনুভূতি ঠিক তেমনি চঞ্চলতা তারুণ্যের। যে চটপটে আর চঞ্চল তাকেই কম বয়সের প্রতীক ধরা হয়।

তারুণ্যের গল্প অনেকটা এ রকম হতে পারে- ‘হাই সুইটি, কাম অন লেটস ডান্স।’ ক্লাবের অনুষ্ঠানে মাহমুদ এভাবেই আহ্বান জানালেন বন্ধুপতœী সোহেলি পারভীনকে। গত জুনে মাহমুদ ৬০ অতিক্রম করে ৬১ বছরে পা দিয়েছেন! আর সোহেলি তার চেয়ে প্রায় অর্ধেক বয়স। এভাবেই মাহমুদ মত্ত থাকেন, মাতিয়ে রাখেন বন্ধুবান্ধবকে। ক্লাবের অনুষ্ঠান, পিকনিক, স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট ম্যাচ- সব জায়গাতেই তার সরব ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি। তিনি আসরে থাকা মানেই আসর প্রাণবন্ত। চমৎকারভাবে শরীরটাকেও ফিট রেখেছেন। মেদহীন একহারা গড়ন তার শরীরের। ভোরে নিয়মিত হাঁটেন, ব্যায়াম করেন। সন্ধ্যায় কয়েক মিনিট যোগ ব্যায়াম সেরে নেন। তাকে দেখে বোঝার উপায়ই নেই, তিনি অবলীলায় পার করেছেন তিন-তিনটি কুড়ি একযোগে।

বয়স কিংবা সময়- এ ভাবনাটি থাকে মনে কিংবা মস্তিষ্কে। সবাই বড় হতে চান। তবে কেউই বুড়ো হতে চান না। ৩০ বছর পার হতে না হতেই যদি নিজেকে বয়স্ক মানুষ ভাবতে থাকেন তাহলে দেহ ও ত্বকে এর প্রভাব অবশ্যই পড়বে। সবকিছুর দোষ বয়সের কাঁধে চাপিয়ে দেবেন না। মনের ভেতর ইচ্ছাশক্তি জাগিয়ে রাখুন। দেহ ও ত্বকে তারুণ্য ধরে রাখতে কাজ করুন। কল্পনায় ফেলে আসা দিনগুলো দেখতে থাকেন। কিন্তু কেমন হয় যদি চল্লিশের কোঠা পার হয়েও নিজের মধ্যে  ত্রিশের তারুণ্য ধরে রাখতে পারেন!

তারুণ্য ধরে রাখতে শারীরিক ব্যায়াম করা যতটা জরুরি ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ মানসিক ব্যায়াম। কিছু প্রয়োজনীয় বিষয় খেয়াল করে চলতে পারলে আপনিও ধরে রাখতে পারবেন আপনার তারুণ্য। যদি আমাদের জীবনধারা ও খাবার তালিকায় কিছু পরিবর্তন করি তাহলেই আমরা অনেক বয়স পর্যন্ত চেহারায় তারুণ্য বজায় রাখতে পারি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর কিছু মনের ব্যায়াম এবং তারুণ্য ধরে রাখার কিছু কৌশল

তুলে ধরা হলো-

 

 

ঘুম : সঠিক সময়ে ঘুমানো, রাত না জাগা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ভোরে ঘুম থেকে উঠলে শরীর সতেজ রাখে। অযথাই বেশি রাত জাগবেন না। প্রতিরাতে অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা ঘুমান।

হাসি-কান্না : অনাবিল হাসি আমাদের হার্টের জন্য উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, মনখুলে হাসলে আয়ু বাড়ে। এমনকি চোখের জল ঝরানো কান্নাও যে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে তা বহু বছর ধরেই ছিল অজানা। ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডা ফাউন্ড ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, কান্নার পর যে কোনো মানুষই বেশ স্বস্তি অনুভব করে।

 

বিভিন্ন মানসিক চ্যালেঞ্জ গ্রহণ : মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে মনটাকে কাজে ব্যস্ত রাখার কোনো বিকল্প নেই। ছোটবেলায় আমারা নানান খেলার ছলে মনের ব্যস্ত রাখতাম। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বহুবিধ মানসিক চাপ বেড়েছে। তাই মনকে নান বিষয়ে ব্যস্ত রাখতে হবে।

মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকুন : মানসিক চাপের কারণে ত্বকে, বিশেষ করে মুখের ত্বকে রিংকেল পড়তে দেখা যায়। এছাড়া চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয় মানসিক চাপ। মানসিক চাপ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করার বেশ বড় একটি কারণ। অন্যদিকে অনেকেই মানসিক চাপে পড়লে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন।

সঙ্গীর সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক সুসম্পর্ক বজায় রাখা : সঙ্গীর সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক সুসম্পর্ক বজায় রাখাটা তারুণ্য ধরে রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

রাগ বা ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ : রাগ যতটা সম্ভব কমিয়ে ফেলুন। কারণ রাগলে মুখের চামড়ায় ভাঁজ পড়ে যায়। রাগ ও ক্রোধ মানসিক চাপ তৈরি করে, মুখে বলিরেখার সৃষ্টি করে, মানসিক স্বাস্থ্যহানি করে। তাই রাগের মতো নেতিবাচক অনুভূতি থেকে যতোটা সম্ভব দূরে থাকা উচিত।

বন্ধুত্ব : সব সামাজিক সম্পর্কের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বন্ধুত্ব। গবেষণায় জানা গেছে, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গ

আপনাকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করে তুলতে পারে এমনভাবে যা প্রতিদিন তিন কাপ চায়ের সমপরিমাণ এনার্জির কাজ করে। এছাড়া অবসাদগ্রস্ততা ও একাকিত্ব সরিয়ে জীবন কর্মমুখর করে তুলতে বন্ধুদের আড্ডার বিকল্প নেই। ব্রিগহাম ইয়ং ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রীদের ওপর এক গবেষণায় জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বন্ধুদের সঙ্গ আপানার পরিবেশ ও আচরণে শতকরা ৫০ ভাগ ইতিবাচক ভাবনা এবং শারীরিক সুস্থতা গড়ে তুলতে সক্ষম।

নতুন কিছু জানার আগ্রহ : সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলসের এক গবেষণায় দেখা গেছে মস্তিষ্কের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ওয়েব ব্রাউজিং ও ওয়েব পেইজ সার্চিং বিশেষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। শুধু তা নয়, ভাষাগত জ্ঞানের উন্নতি সাধনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে ওই ওয়েব সাইটগুলো।

সঠিক পরিচর্যার অভাবে অনেকেই বুড়িয়ে যান অল্প বয়সেই। উল্টোদিকে তাকালে অপেক্ষাকৃত বয়স্কদের বেশ ফিট ও ছিমছাম দেখা যায়। শুধু চেহারায় তারুণ্য ধরে রাখতে নয়, পুরো শরীরে চাঙ্গা ভাব ধরে রাখতে স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া জরুরি।

 

এই বিষয়ে একটু জেনে নেয়া যাক -

 

প্রচুর পানি পান করুন : পানি দেহ, ত্বক ও দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জন্য বিশেষভাবে জরুরি। নিষ্প্রাণ ত্বক, কিডনির ক্ষতি, দুর্বলতা এবং একই সঙ্গে মনের বার্ধক্যের জন্য দায়ী পানিশূন্যতা। প্রতিদিন নিয়মিত ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি পান দেহ রাখে টক্সিনমুক্ত, সুস্থ ও সবল এবং ধরে রাখে তারুণ্য।

সুষম খাবারের তালিকা : খাবারের তালিকায় টমাটো, রসুন, খেজুর জলপাই তেল বেদানা রাখুন। টমাটো বয়স ধরে রাখতে সাহায্য করে। রসুনটিকে বহু রোগের ওষুধ ধরা হয়। খেজুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। জলপাই তেলে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পলিফেনল। তা বার্ধক্যজনিত রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। জলপাই তেল হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও কমায়। এছাড়া জলপাই তেলে থাকা ভিটামিন ‘এ’ ও ‘ই’ ত্বকের কুঁচকে যাওয়া রোধ করে। নিয়মিত যে কোনো বাদাম খেলে ত্বক সতেজ ও সুন্দর থাকে।

বয়সটা বেড়েই চলেছে প্রতিনিয়ত। কোনোভাবেই যেন ধরে রাখা যাচ্ছে না। যে পোশাকই পরছেন না কেন, কিছুই যেন ঠিক মানাচ্ছে না ইদানীং। কোন পোশাক পরলে বয়সটি একটু কম দেখাবে তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তারও শেষ নেই। সঠিক পোশাক নির্বাচন করলে আপনার বয়স কমে যাবে অনেকখানি। তাছাড়া সঠিকভাবে পোশাক পরলে আপনাকে বেশ স্লিম ও স্টাইলিশও দেখাবে।

আসুন তাহলে জেনে নেয়া যাক কোন পোশাক কীভাবে পরলে বয়স কিছুটা হলেও ঢেকে যাবে-

পোশাকে পরিবর্তন আনুন : একটু বয়স বেড়ে গেলে ওই পুরনো ধাঁচের পোশাক পরলে বেশ একঘেয়ে ও বয়স্ক দেখায়। তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পোশাকে বেশকিছু পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। যেমন- পুরনো ধাঁচের পোশাক পরতে চাইলে সঙ্গে স্টাইলিশ জ্যাকেট, ফ্যাশনেবল জুতা বা ঘড়ি অথবা হাল ফ্যাশনের কোনো ব্যাগ কিংবা বেল্ট নিয়ে নিন। এতে পোশাকের চেহারাই পাল্টে যাবে।

সঠিক মাপের পোশাক : বয়স হয়ে গেলে ঢিলেঢালা পোশাক পরেন অনেকেই। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি সঠিক মাপের পোশাক না পরা হয় তাহলে দেখতে আরো বয়স্ক দেখায়। তাই নিজের জন্য পোশাক কিনতে গেলে সঠিক মাপ দেখে কিনুন। পোশাক বেশি আঁটসাঁট হলেও খারাপ দেখাবে আবার বেশি ঢোলা হলেও বয়স বেশি দেখাবে।

উজ্জ্বল রঙ : আমাদের দেশে প্রচলিত আছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পোশাকের রঙও হালকা হতে হয়। কিন্তু এটি একটি ভুল ভাবনা। বয়স বেড়ে গেলে হালকা রঙের কাপড় পরলে আরো ম্লান দেখায়। বয়সের সঙ্গে পোশাকের রঙও উজ্জ্বল হওয়া উচিত। লাল, কমলা, উজ্জ্বল নীল, সবুজ ইত্যাদি রঙগুলোর পোশাক পরলে আপনার বয়স কম দেখাবে আবার গায়ের রঙটাও বেশ উজ্জ্বল লাগবে। আপনি যদি উজ্জ্বল রঙের পোশাক পছন্দ না করে থাকেন তাহলে আপনার হালকা রঙের পোশাকটির সঙ্গে একটি উজ্জ্বল রঙের ওড়না, টাই, বেল্ট ইত্যাদি নিয়ে নিন। আনেকটাই তরুন দেখাবে আপনাকে।

কাপড়ের ধরন : পোশাকের জন্য কাপড়ের ধরনের ওপরও আপনাকে কতোটুকু তরুন দেখাবে তা নির্ভর করে। যেমন- চকচকে স্যাটিন কাপড় পরলে বয়স বেশ খানিকটা কম দেখায়। আবার একটু বড় ধরনের প্রিন্টের পোশাক পরলেও বয়স লুকনো যায় বেশখানিকটা। তাই বয়স তারুণ্যের জন্য ভিন্ন টেক্সচারের পোশাক পরে দেখুন কোনটায় আপনাকে বেশি মানাচ্ছে।

পোশাক নির্বাচন : বয়সের সঙ্গে মানানসই পোশাক নির্বাচন করাটা বেশ কষ্টসাধ্য। তাই ওই সময় কী পরা উচিত-অনুচিত তা নিয়ে অনেকেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগে থাকেন। সঠিক পোশাক নির্বাচন করে নিতে পারলে আপনার বয়স ঢাকার পাশাপাশি আপনাকে রুচিশীল ও ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন লাগবে। তাই সঠিক পোশাক নির্বাচন করে বয়সটি লুকিয়ে ফেলুন সহজেই।

 

পরিশেষে বলা যায়, তারুণ্য থাকে অবচেতনে যা আচরণের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। প্রকৃতির নিয়মে সময়ের সঙ্গে বেড়ে যায় বয়স। এটি জিনগত বৈশিষ্ট্য। তবে এর মধ্যে অনেকেই তারুণ্য ধরে রাখেন। তারুণ্যের কাছে হার মানে তাদের বয়স। বয়স বেড়ে যাওয়া মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে হলেও তারুণ্য ধরে রাখা একেবারেই কঠিন কাজ নয়। সহজ কিছু নিয়ম মেনে চললেই বয়সকে হার মানিয়ে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন আরো সুন্দর, তরুণ, স্নিগ্ধ ও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর।

 

___________________________________________________________________________

লেখা : ঋভু অনিকেত

মডেল : এনায়েত কবির  

ছবি : সাঈদ সিদ্দিকি

শোভন আচার্য্য অম্বু

 

 

 

Page 1 of 2

About Us

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua.

Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur.

Read More

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…